সংবাদমাধ্যমে হামলা গণতন্ত্রের ওপর আঘাত

ছবি : সংগৃহীত
২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:৩৫ পিএম
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের অপরিহার্য অংশ। একটি রাষ্ট্র কতটা গণতান্ত্রিক-- তা বোঝার অন্যতম মানদণ্ড হলো সেখানে সংবাদমাধ্যম কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা সচেতন সমাজকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। এসব ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে সর্বস্তরের মানুষের কাছ থেকে।
নোয়াখালী হানাদারমুক্ত দিবস আজ
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির মর্মান্তিক প্রাণহানির পরপরই গণমাধ্যমের ওপর হামলার ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে--ঘটনার নেপথ্যের সত্য আড়াল করতেই কি সংবাদমাধ্যমকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে? ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, যখনই ক্ষমতাবান বা দুষ্কৃতিকারীরা ভয় পায়, তখনই তারা সত্যের কণ্ঠরোধ করতে চায়। কিন্তু গণমাধ্যমকে স্তব্ধ করে কখনোই সত্য চাপা দেওয়া যায় না।
কোটা সংস্কার আন্দোলন, ছাত্র-জনতার গণআন্দোলন ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এক সংবেদনশীল সময় অতিক্রম করছে। এই সময়ে নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যমই পারে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরতে এবং অপরাধীদের মুখোশ উন্মোচন করতে। অথচ সেই গণমাধ্যম আজ হামলা, অগ্নিসংযোগ ও অপপ্রচারের শিকার।
ওসমান হাদির মৃত্যু কোনো সাধারণ ঘটনা নয়; এটি জাতির বিবেককে নাড়া দিয়েছে। তাঁর ওপর হামলা এবং পরবর্তী সহিংসতায় দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলোও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দল-মত নির্বিশেষে সবাই এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
গণমাধ্যমকে প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখার মানসিকতা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত। সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ মানেই দেশকে আবার অগণতান্ত্রিক পথে ঠেলে দেওয়া। অথচ বাস্তবতা হলো--প্রিন্ট মিডিয়া আজ এমনিতেই চরম আর্থিক সংকটে রয়েছে। বিজ্ঞাপন বাজারের বড় অংশ ইলেকট্রনিক ও ডিজিটাল মাধ্যমে চলে যাওয়ায় ছাপা পত্রিকাগুলো টিকে থাকার লড়াই করছে। সরকারি বিজ্ঞাপন ও বকেয়া বিল পরিশোধে দীর্ঘসূত্রতা এই সংকটকে আরও গভীর করেছে।
এই অবস্থায় সংবাদমাধ্যমের ওপর হামলা শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, পুরো গণতন্ত্রের ওপর আঘাত। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো--গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা দেওয়া এবং সত্য প্রকাশের পথ নির্বিঘ্ন রাখা। কারণ, স্বাধীন গণমাধ্যম ছাড়া সুশাসন, জবাবদিহি ও গণতন্ত্র--কোনোটিই টেকসই হতে পারে না।


