নতুন প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান থাকলেও উদাসীন বিএনপির কর্তারা

ছবি : সংগৃহীত

এসএম ফারহান লাবিব (জেলা প্রতিনিধি, বগুড়া)

১২ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:০০ পিএম

নতুন প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা ও প্রথম ভোট ব্যারিস্টার জাইমা রহমান ও অপর দুই সদস্য, তাদের তিন বোনের জন্যই হোক এমন সুযোগ থাকলেও বিএনপির নীতি নির্ধারকদের উদাসীনতায় হতাশ নতুন প্রজন্মের বড় একটি ভোটের অংশ। অপ্রাপ্ত বয়সে পিতা জনাব তারেক রহমানের চিকিৎসায় যুক্তরাজ্যে গমন করলেও দেশে ফেরার পথ রুদ্ধ করে দেয় বিগত সরকারসমূহ। প্রায় দেড় যুগের অধিক সময় প্রবাসে থাকলেও ভুলে যায়নি জন্মভূমি বাংলাদেশের কৃষ্টি-কালচার ও ঐতিহাসিক আবরণ।


লুটেরা শ্রেণির সঙ্গে সেনাপ্রধানের বক্তব্যের মিল

জিয়া পরিবারের নতুন প্রজন্মের সদস্যদের মাধ্যমে ফুঁটে উঠেছে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের “প্রথম বাংলাদেশ, আমার শেষ বাংলাদেশ” এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ‘মা, মাটি, দেশ’ শব্দগুলোর প্রতিচ্ছবি জনাব তারেক রহমান ও মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর সন্তানদের মাঝে। জিয়া পরিবারের নতুন প্রজন্মের তিন সদস্য অত্যন্ত পরিমার্জিত হওয়ায় প্রশংসায় সর্বস্তরের মানুষ ও সমালোচকরা।


জিয়া পরিবারের নতুন সদস্যরা কিছুদিন স্বাভাবিক জীবনযাপন করলেও উঠতি বয়সে চরম প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠা জাইমা রহমান ও দুই বোন কাছে থেকে দেখেছে বাবা ও চাচার মৃত্যুর প্রতিচ্ছবি। মনুষ্যপটে অমলিন স্মৃতিগুলোর সঙ্গে বেড়ে ওঠা জাইমা রহমান দেখেছেন পরিবারের ওপর সর্বকালের বীভৎস নির্যাতন, নির্মমতার চরমে। জিজ্ঞাসাবাদের নামে বাবা তারেক রহমান, চাচা আরাফাত রহমান কোকো, দাদী বেগম খালেদা জিয়ার ওপর নির্যাতনের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা পায়নি প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী, চিকিৎসক এবং ডাঃ জোবাইদা রহমানকেও নির্যাতনের দৃশ্য। জিয়া পরিবারের পুত্রবধূ হওয়ায় মফস্বল শহরে বদলির সঙ্গে যোগদানের সময় বেঁধে দেওয়ায় ক্ষুব্ধ মানুষের প্রতিবাদের সুযোগ সীমিত থাকায় নীরবতা পালন করে মানুষ। অনেক ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে প্রায় দেড় যুগ যুক্তরাজ্যে প্রবাসী অবস্থায় অর্জন করে বার-অ্যাট-ল ব্যারিস্টারি।

গত ২৫ ডিসেম্বর জন্মভূমি বাংলাদেশ ফিরে আসা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের দুর্দশা যেন পিছু ছাড়ছেনা। ২৫ ডিসেম্বর থেকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কাছে থেকে প্রত্যক্ষ করেছে প্রাণের চেয়ে প্রিয় ও খেলার সাথী দাদী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী, আপসহীন দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু একটি কালের সমাপ্তি। দেশে ফেরার পথে বই পড়ে সময় পার করা জাইমা রহমান হাসপাতালে অসুস্থ দাদী বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে যান পরিমার্জিত পোশাকে। গত ৩০ ডিসেম্বর ভোর ৬টায় এক কাল, আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাপ্তি ও কবরস্থ। দাদীর কবর জিয়ারতে পরিহিত পোশাক শাড়িতে থাকা জাইমা রহমান দাদীর পরিপূরক প্রতিচ্ছবি। পোশাকের পরিমার্জিতা ও নম্র ভদ্র আচরণে খুশি সর্বস্তরের মানুষ। ইতিপূর্বে জিয়া পরিবারের সমালোচকরাও প্রশংসায় ভাসিয়েছেন জিয়া পরিবারের নতুন প্রজন্মের বড় সদস্য জাইমা রহমানকে। 

নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ সাধারণ নির্বাচনের ঘোষিত তারিখ ও সম্ভাব্য নির্বাচন ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পর এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ২০২৬ যতগুলো সংসদ ও স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, তার মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে ভোট প্রদান করবেন নতুন প্রজন্মের প্রায় ৫ কোটি ভোটার।

অতীতের নির্বাচন আর আসন্ন নির্বাচন এক নয়। কারণ নতুন প্রজন্মের ভোটাররা দেখেননি শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার দুঃশাসন এবং নির্মমতা। তারা দেখেনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বনির্ভর দেশ গড়ার কোনো নির্বাচন। তারা দেখেনি স্বৈরাচারী এরশাদের দুঃশাসন। নতুন প্রজন্মের ভোটাররা দেখেননি ১৯৯৬ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনতন্ত্রের তামাশা, দেশের সর্বত্রই বেড়ে ওঠা গডফাদারদের দৌড়ত্ব ও লুটপাত। নতুন প্রজন্মের ভোটাররা দেখেননি ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত চার দলীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার দেশ গড়া, শতভাগ শিক্ষা এবং মানবকল্যাণ কার্যক্রম।

তারা শেখ হাসিনার প্রায় ১৬ বছরের শাসন কাছে থেকে দেখে আকৃষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে নতুন প্রজন্মের ভোটারদের ভাবতে হচ্ছে বিকল্প রাজনৈতিক দল। কেননা নতুন প্রজন্মের প্রায় ৫ কোটি ভোটার গতি পরিবর্তন করতে পারে আগামী দিনের সরকার ব্যবস্থা। বিএনপি তাদের সভা-সমাবেশে ‘তরুণ প্রজন্মের প্রথম ভোট, ধানের শীষের পক্ষে হোক’ স্লোগান দিলেও নতুন প্রজন্ম থাকলেও দাঁড় করাতে ব্যর্থতা, ক্ষোভ ভালো কিছু প্রত্যাশা করে না সচেতন মানুষ।

দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারুণ্যের প্রথম ভোট টানার সকল সুবিধা বিদ্যমান থাকলেও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণে ব্যর্থতার বোঝা কেন বহন করবে দেশের মানুষ? নতুন প্রজন্মের অধিকাংশ ভোটারের পছন্দের রাজনৈতিক দল বিএনপি হলেও প্রার্থী অপছন্দ। একমাত্র ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের ক্ষেত্রেই তারুণ্যের প্রথম ভোট ধানের শীষের পক্ষে হোক। তারুণ্যের ইতিহাসে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে সংযুক্ত করতে না পারায় হতাশ সর্বস্তরের মানুষ।