মানবিক আবহে গড়ে ওঠা নেতৃত্ব আতিকুর রহমান রুমন

ছবি : সংগৃহীত
১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:৩১ পিএম
জিয়া পরিবারের আস্থা বাস্তবায়নে দৃঢ় অবস্থানে আতিকুর রহমান রুমন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, জেড ফোর্সের প্রধান কমান্ডিং অফিসার, বীর উত্তম শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী, পরীক্ষিত দেশপ্রেমিক বঙ্গমাতা বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের প্রতি আনুগত্যের পুরস্কারস্বরূপ আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেছেন তিনি। জিয়া পরিবারের কর্ণধার, বিএনপির চেয়ারম্যান ও তারুণ্যের অহংকার জনাব তারেক রহমান দেশে যাঁদের চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করেন, জিয়া পরিবারের সেই বিশ্বস্তদের একজন সাংবাদিক আতিকুর রহমান রুমন। দীর্ঘ দুঃশাসনে ধৈর্য ও বিচক্ষণতার সঙ্গে যিনি বাস্তবায়ন করেছেন জিয়া পরিবারের সকল সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম।
জেনারেল এমএজি ওসমানীর মৃত্যুবার্ষিকী
জনতার পাশে দাঁড়িয়ে, জনতার কথাই বলে যাওয়া যার অঙ্গীকার, তিনিই সাংবাদিক আতিকুর রহমান রুমন। সাহসী সাংবাদিকতার সঙ্গে মানবিকতা, দায়িত্ববোধ ও ধারাবাহিক সামাজিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তিনি আজ হয়ে উঠেছেন সাধারণ মানুষের নির্ভরতার এক দৃঢ় ঠিকানা। অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো যার প্রতিশ্রুতি এবং আর্তমানবতার সেবাই যার নীরব সাধনা। পারিবারিক সূত্রে মানবিকতার কোমল আবহে বেড়ে উঠলেও গণমানুষের স্বার্থে অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন এই মানুষটি জন্মভূমি বগুড়া জেলার কৃতিসন্তান।
১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা থেকে শুরু করে ১/১১-এর দমননীতি পেরিয়ে ২০২৪ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের প্রতিটি বাঁকে সবসময় তাঁর সাহসী কলম গর্জে উঠেছে এক আপসহীন দৃঢ়তায়। এই নিরলস সংগ্রামেই সাংবাদিকতা ও রাজনীতির মোহনায় আতিকুর রহমান রুমন নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন এক অনন্য উচ্চতায়। দেশ ও দশের স্বার্থে রাজপথে ছিলেন অবিচল, তেমনি অসহায়দের স্বার্থে তিনি ছিলেন নির্ভরতার এক আশ্রয়স্থল।
প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিধ্বস্ত পরিবার, অগ্নিকাণ্ডে মুহূর্তে সর্বস্ব হারানো মানুষ, দীর্ঘদিন অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করা অসহায় রোগী কিংবা কনকনে শীতের রাতে উষ্ণতার অভাবে কাঁপতে থাকা দরিদ্র পরিবার—প্রতিটি সংকটময় পরিস্থিতিতেই রুমনের সরব উপস্থিতি ছিল ভরসার এক নীরব বার্তা। চারদিকে যখন ঘনিয়ে আসে হতাশা, দীর্ঘ হয় অনিশ্চয়তার ছায়া, তখনই কারও ঘরে খাদ্যসামগ্রী, কারও হাতে চিকিৎসা সহায়তা আবার কারও জন্য পুনর্বাসনের ব্যবস্থা—প্রতিটি উদ্যোগেই ফুটে ওঠে মানুষের প্রতি রুমনের গভীর দায়বদ্ধতা।
আতিকুর রহমান রুমনের মানবিক ও আদর্শিক বোধের শিকড় প্রোথিত তাঁর পারিবারিক শিক্ষায়। তাঁর পিতা মরহুম হাফিজুর রহমান ছিলেন একজন সৎ ও নিষ্ঠাবান সরকারি কর্মকর্তা এবং সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় একজন মানবিক ব্যক্তিত্ব। কর্মজীবনের ব্যস্ততার মাঝেও মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে তিনি গ্রহণ করেছিলেন দায়িত্ব হিসেবে। সততা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ—এই তিন গুণেই তিনি ছিলেন অনুকরণীয়।
অন্যদিকে তাঁর মাতা মরহুমা ফেরদৌসী বেগম ছিলেন এফ. এইচ. ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং দানশীলতা ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের জন্য সুপরিচিত এক মহীয়সী নারী। অসহায় ও দুস্থ মানুষের সহায়তায় তিনি ছিলেন অগ্রণী ভূমিকার অধিকারী। মানবিকতা ছিল তাঁর ব্যক্তিত্বের অলংকার, আর মানুষের কল্যাণ ছিল তাঁর জীবনের ব্রত। এমন আদর্শিক ও মানবিক পরিবেশেই বেড়ে ওঠেন আতিকুর রহমান রুমন।
প্রিয় নেতার নির্দেশনায় সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা অপূর্ব রূপসী বাংলাদেশের প্রত্যন্ত জনপদ থেকে শুরু করে শহরের ব্যস্ত অলিগলির আনাচে-কানাচে, সবখানেই ছড়িয়ে আছে রুমনের মানবিকতার উষ্ণ ছোঁয়া। নদীভাঙনকবলিত গ্রাম, ঝড়-বৃষ্টিতে বিধ্বস্ত জনপদ কিংবা নগরীর প্রান্তিক মানুষের নিঃশব্দ কান্না—প্রতিটি জায়গায় তিনি পৌঁছে দিয়েছেন সহমর্মিতার বার্তা।
বিএনপি চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত মানবিক ও সামাজিক সেবামূলক সংগঠন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক হিসেবে রুমন দায়িত্ব পালন করেন সততা, নিষ্ঠা ও কর্মদক্ষতার সঙ্গে। সংগঠনটি গুম, খুন ও পঙ্গুত্বের শিকার নেতাকর্মী এবং তাঁদের পরিবারসহ বিপর্যস্ত ও দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ায়। আতিকুর রহমান রুমন সংগঠনের কার্যক্রমকে কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ রাখেননি, বরং সংকটময় মুহূর্তে দুর্বার গতিতে ছুটে গিয়েছেন সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে, পাশে দাঁড়িয়েছেন মানবিকতার পতাকা উড়িয়ে। এই ধারাবাহিক মানবিক উদ্যোগের ফলেই সংকট এলেই দুর্গত ও প্রত্যাশিত মানুষ পথ চেয়ে থাকেন—“রুমন ভাই আসবেন। তিনি আবার আসবেন প্রিয় নেতার নির্দেশে, মানবিকতার আশ্রয় হয়ে।”
এছাড়াও বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য এবং জাতীয় "দৈনিক দিনকাল" পত্রিকার বিশেষ প্রতিবেদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আতিকুর রহমান রুমন। চরম দুঃসময় ছিল যার জীবনে নিত্যসঙ্গী, সেই আঁধার পেরিয়েই তিনি আজ হয়ে উঠেছেন জীবন্ত এক কিংবদন্তি। দীর্ঘ ফ্যাসিস্ট শাসনামলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হলেও দেশ ছেড়ে যাননি তিনি। অবিচল থেকে পালন করেছেন প্রিয় নেতার সকল নির্দেশনা।
শৈশব থেকেই আতিকুর রহমান রুমন দেখেছেন—মানুষের পাশে দাঁড়ানো কেবল প্রশংসনীয় কাজ নয়, বরং এটি একটি নৈতিক দায়িত্ব। মাত্র সাড়ে পাঁচ বছর বয়সেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সমাজ ও দেশের প্রতি দায়বদ্ধতার বোধ লালন করতে শুরু করেন তিনি। প্রতিকূল রাজনৈতিক সময়, নানা সীমাবদ্ধতা এবং চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও তিনি নিজ উদ্যোগে অসহায় ও বিপর্যস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন নীরবে ও দৃঢ়তায়।
মানবিকতা, আদর্শ ও আপসহীন সাহসের এক সমন্বিত প্রতিচ্ছবি সাংবাদিক আতিকুর রহমান রুমন। রাজনীতি ও সাংবাদিকতার অঙ্গনে তাঁর এই নিরলস পথচলা কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়, বরং দায়িত্ববোধ, আনুগত্য ও মানবিক অঙ্গীকারের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সততা, নিষ্ঠা ও নির্লোভ জীবনযাপনের মাধ্যমে তারুণ্যের অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠা মানবিকতার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র বিশিষ্ট সাংবাদিক জনাব আতিকুর রহমান রুমন এমন একজন মানুষ, যার চিন্তা-চেতনা ও আদর্শে প্রতিধ্বনিত— ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ, জীবন বাংলাদেশ আমার মরণ বাংলাদেশ।’


