চিকিৎসার জন্য আমাকে বিদেশে যেতে দেওয়া হয়নি : রাষ্ট্রপতি

ছবি : সংগৃহীত
২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর বারবার বিদেশ সফরে গেছেন। অথচ তাকে চিকিৎসার জন্য একবারও বিদেশে যেতে দেননি বলে অভিযোগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এ ছাড়া তিনি যেন মনস্তাত্ত্বিকভাবে ভেঙে পড়েন—এমন চেষ্টাও হয়েছে বলে জানান রাষ্ট্রপতি।
দেশে এসেছে ৪ লাখ ৬০ হাজার প্রবাসীর পোস্টাল ব্যালট
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে বঙ্গভবনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই অভিযোগ করেন।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সাক্ষাৎকারটির প্রথম পর্ব প্রকাশের পর মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) শেষ অংশ প্রকাশিত হয়েছে।
সাক্ষাৎকারে বলা হয়েছিল, আপনি নিজে থেকে আর কোনো বিষয়ে বলবেন?
জবাবে রাষ্ট্রপতি আক্ষেপ করে বলেন, ‘কত আর বলব? আমাকে যেন এই প্রাসাদে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল। পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার নামাজে রাষ্ট্রপতি জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে অংশগ্রহণ করেন, দেশ স্বাধীনের পর থেকে এই রেওয়াজ চলে আসছে। কিন্তু ড. ইউনূসের সরকার সেই রেওয়াজে প্রতিবন্ধকতা দিয়েছে। আমাকে দুটা ঈদের নামাজে অংশ নিতে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে যেতে দেয়নি। নিরাপত্তা বিভাগের মাধ্যমে আমাকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, আপনি ঈদের নামাজে অংশ নিতে জাতীয় ঈদগাহে যাবেন না।’
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবসে মূল রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান বঙ্গভবনেই হয়ে থাকে। দীর্ঘদিনের রেওয়াজ অনুযায়ী আমরা এই দিবসগুলো বঙ্গভবনে আয়োজন করি; জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান হয়। আমরা ওই দিবসগুলোতে প্রধান উপদেষ্টাকে আনুষ্ঠানিকভাবে দাওয়াত দিয়েছি; কিন্তু তিনি আসেননি। এর আগে সরকারপ্রধানরা প্রায় প্রতিটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। যদিও সাংবিধানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, তবে এটি সৌজন্যবোধের বিষয়।’
চিকিৎসা প্রসঙ্গে মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হসপিটালে আমার একটি বাইপাস সার্জারি হয়েছিল। সার্জারির এক বছর পর সেখানকার হাসপাতালে আমার ফলোআপের অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছিল। সময়মতো আমি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার উদ্দেশে যাওয়ার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিই। প্রত্যুত্তরে আমাকে সরাসরি নিষেধ করে দেওয়া হয়। বলা হয়, যদি প্রয়োজন হয়, বিদেশ থেকে চিকিৎসক আনার ব্যবস্থা করবেন, তবু বিদেশে যাওয়া যাবে না।’
‘একইভাবে লন্ডনে কেমব্রিজ পার্কওয়ে হসপিটালেও আমার অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছিল। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার আমাকে সেখানেও যেতে দেয়নি,’ বলেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা সফর নিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘গত দেড় বছরে প্রধান উপদেষ্টা ১৪ বার বিদেশে গেছেন, অথচ আমি চিকিৎসার জন্য যেতে পারিনি। মূলত আমি যেন মনস্তাত্ত্বিকভাবে ভেঙে পড়ি, এটাই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য। আমি ভেঙে পড়ে যাতে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করি; এতে তারা অসাংবিধানিকভাবে পছন্দের কাউকে বসাতে পারবে। আর এটা করতে পারলেই নির্বাচন বিলম্ব করানো বা নিজেদের ক্ষমতা বেশি দিন ধরে রাখা যেত। নিজেদের মনমতো রাষ্ট্রপতি হলে যা ইচ্ছা তা-ই করা যায়—এই ভাবনা থেকেই আমার ওপর মানসিক পীড়ন চালিয়েছেন তারা।’
তার কাছে প্রশ্ন ছিল, আপনি রাষ্ট্রপ্রধান। একজন অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান বা তার সহকর্মীরা দেশের সংবিধান লঙ্ঘন করে রাষ্ট্রপ্রধানকে অপদস্থ করেছেন। এসব ঘটনার আইনি দিক সম্পর্কে কিছু কি বলবেন? সাংবিধানিকভাবে আপনি কি কোনো পদক্ষেপ নিতে পারতেন না?
জবাবে রাষ্ট্রপতি বলেন, অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে সেটি ছিল একটি ব্যতিক্রমী সরকার। আইনি পদক্ষেপ নেওয়া কিছু ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, আবার কিছু ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এসব আইনি জটিলতার কারণে ব্যবস্থা নেওয়ার দিকে না গিয়ে এড়িয়ে যাওয়াটাকেই স্বস্তিদায়ক মনে করেছি। তাই এড়িয়ে গেছি। চিন্তা করেছি, যতটা নির্ঝঞ্ঝাট থাকা যায়। তাই নীরবেই সয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছি।
রাষ্ট্রপতি পদ থেকে অবসরের পর কোন কাজে মনোনিবেশ করতে চান? এমন প্রশ্নে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমি তো আইন অঙ্গনের মানুষ। জীবনের দীর্ঘ ৪০টি বছর কাটিয়ে দিয়েছি কোর্ট-কাচারিতে। অবসরের পর একজন আইনি পরামর্শক হিসেবে বাকি জীবন কাটিয়ে দেব; যদি শরীর-স্বাস্থ্য ভালো থাকে।’

