বইয়ের ঘ্রাণে দোলা দিল দোল পূর্ণিমা

ছবি : সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ মার্চ ২০২৬, ০৩:৫২ পিএম

সংকট-হতাশার মধ্যে শুরু হয় এবারের অমর একুশে বইমেলা। প্রকাশকরা হতাশার বীণ হাতে পার করলো ছয়দিন। এরই মধ্যে দুদিন ছুটির দিনে আশার আলো দেখা মিললেও আবার হতাশার ভাঁজ ঠায় নিয়েছে প্রকাশকদের কপালে। টানা দুইদিন মন্দা অবস্থায় বিষন্ন ছিলেন প্রকাশকরা।


পাক-ভারত সংঘাতের ইতিহাস

একুশের মেলা জমবে কি-না এমন সংশয়ে ছিলেন তারা। আর গতকাল মঙ্গলবার ষষ্ঠ দিন দুপুর পর্যন্ত সেই সংশয় প্রকাশকদের মনে শংকার সৃষ্টি করেছিলো। দুশ্চিন্তা ঘিরে ধরেছিলো এবারের মেলায় অংশ নেওয়া প্রায় সকল প্রকাশককে। কিন্তু ইফতারের আগ মুহুর্তে সেই শংকা ও দুশ্চিন্তা অনেকটা কেটে যায়। এদিন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব দোল পূর্ণিমা হওয়াতে ভিড় নামে মেলার পাশে অবস্থিত মন্দিরে। রং খেলা ও ভজন সংগীতে আগতদের উপস্থিতি মেলায় প্রাণের সঞ্চার করে। দোল পূর্ণিমা উপভোগ করার পাশাপাশি বিভিন্ন স্টল ঘুরে ঘুরে বইকেনার দৃশ্য গত দুইদিনের দুশ্চিন্তা কিছুটা হলেও কমিয়ে দেয়। কিন্তু, এতেও সন্তুষ্ট নন প্রকাশকরা। তাদের বেশিরভাগ জানান ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার মতো বিক্রি তারা করতে পারেন নি৷ এদিনের মেলা নিয়ে কথা হয় পুথিপ্রকাশের স্বত্তাধিকারী সুজন বিশ্বাসের সঙ্গে।


তিনি বলেন, রমজানে মেলা আয়োজনের ক্ষতিটা আমরা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। যতগুলো নতুন বই আনার কথা ছিলো পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে সবগুলো বই প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতটা খারাপ অবস্থা হবে বুঝতে পারিনি। তবে শুক্রবার থেকে মেলা জমে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন সুজন বিশ্বাস।

সৃজনী প্রকাশনীর স্বত্তাধিকারী মশিউর রহমান বলেন, আমরা শুক্রবারের অপেক্ষা করছি। শুক্রবার ছাড়া মেলা জমবে না বলেও মনে করেন এই প্রকাশক। দুপুরের পর থেকে সুনসান নীরবতার বইমেলা বিকালের দিনে কোলাহলমুখর হয়ে উঠে দোল পূর্ণিমায় আগতদের উপস্থিতিতে। এ সময় মেলায় সৃষ্টি হয় ভালো লাগার পরিবেশ। আর সন্ধ্যার পর থেকে মোটামুটি ফুরফুরে মেজাজে ছিলেন প্রকাশকরা।

দোল পূর্ণিমা মেলায় কোনো ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে মুক্তদেশ প্রকাশনীর স্বত্তাধিকারী জাবেদ ইমন বলেন, মেলা জনমানবহীন ছিলো। সুনসান নীরবতার মেলার পরিবেশে ছিলো বিষাদের ছাপ। দোল পূর্ণিমার কারণে লোকজনের আনাগোনা বাড়লেয়া সেটার কোনো ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি বইমেলায়। দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মেলায় একটু ভালো লাগার পরিবেশ সৃষ্টি হলেও বিক্রি ছিলো একেবারে শুণ্যের কোঠায়। তবে, আমি আশাবাদী। লোকজন এলে বিক্রি আজ না হয় বিক্রি হবেই। বিক্রিও নাই আর লোকজনও যদি না আসে তাহলে খারাপ লাগবে সেটাই স্বাভাবিক। তবে এটা বলাই যায়, দুই দিনের মন্দা পরিস্থিতির পর দোল পূর্ণিমা মেলায় দোল দিয়ে যায়।

নতুন বই, বাংলা একাডেমির জনসংযোগ উপবিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, তথ্যকেন্দ্রে মেলার নতুন বই জমা পড়েছে ৬৫টি। আর গত ছয়দিনে মোট নতুন বই প্রকাশ হয়েছে ২০১টি।

মূল মঞ্চ, বিকেল ৩টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় "জন্মশতবর্ষ : তাজউদ্দীনআহমদ" শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মহিউদ্দিন আহমদ।আলোচনায় অংশ নেন সাজ্জাদ সিদ্দিকী। সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান।

মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস নিয়ে যারা কাজ করেন, তাদের কাছেতাজউদ্দীন আহমদ খুবই প্রাসঙ্গিক একটি নাম। তিনি ছিলেন বাংলাশের প্রথমপ্রধানমন্ত্রী। ১৯৪০ এর দশকে ঢাকায় মুসলিম লীগের কর্মী ছিলেন। ভাষা আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। ১৯৫৩ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে একপর্যায়ে দলের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় সরকার গঠন করে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের পর কয়েকটিমন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। ইতিহাস আমাদের এমন কিছু সময় ওঘটনার মুখোমুখি করে, যেটাকে আমরা বলি ক্রান্তিকাল। তাজউদ্দীন আহমদ এমনইএকটি সময়ের মুখোমুখি হয়েছিলেন ১৯৭১ সালে। ওই সময়টি তাঁর এবং সমগ্রজাতির জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। তাজউদ্দীন আহমদ রাজনীতিতেযতদিন সক্রিয় ছিলেন, ততদিন মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন।

সাজ্জাদ সিদ্দিকী বলেন, তাজউদ্দীন আহমদ বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদেরএকজন। ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে চালকেরঅবস্থানে বসে যুদ্ধের সমন্বয় ও পরিচালনা, সেইসঙ্গে স্বাধীনতাত্তোর দেশপুনর্গঠনের চেষ্টা তাজউদ্দীন আহমদকে ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণতকরেছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পূর্বে ও পরে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।

অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান বলেন, তাজউদ্দীন আহমদ যেভাবে ধীরে ধীরে রাজনৈতিকনেতৃত্ব পর্যায়ে উঠে এসেছিলেন তা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর পরিশীলিত মনোভাব, শিক্ষিত মনন ও ভবিষ্যৎ দূরদৃষ্টিই তাকে নেতা করে তুলেছিল।

আলোচনা পরবর্তী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন কবি সাখাওয়াত টিপু। আবৃত্তি করেন এ. কে. এম দিদার উদ্দিন এবং অনন্যা লাবণী। এছাড়াও ছিল সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ঐকান্তিক শিল্পীগোষ্ঠী’ এবং ‘বাংলাদেশ লোকসঙ্গীত পরিষদ’ এর পরিবেশনা।