পিতার আদর্শ আর কন্যার ভালোবাসায় গড়া এক নীরব সাফল্যের গল্পে আতিকুর রহমান রুমন

ছবি : সংগৃহীত
০৯ মার্চ ২০২৬, ০৭:৫৭ পিএম
মানুষের জীবনে কিছু শক্তি থাকে, যা চোখে দেখা যায় না। আর সেই অদৃশ্য শক্তিই মানুষকে কঠিন পথ পাড়ি দিতে সাহস জোগায় ও এগিয়ে যেতে শেখায়।পিতা-মাতার আদর্শ, তাঁদের দেওয়া মূল্যবোধের শিক্ষা এবং সন্তানের নির্মল ভালোবাসা - এই তিন শক্তিই অনেক সময় মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় প্রেরণায় পরিণত হয়। চলার পথে নানান প্রতিকূলতা ও সংগ্রামের মাঝেও এই অদৃশ্য শক্তিই মানুষকে দৃঢ়তা দেয়, সাহস দেয় এবং নতুন করে স্বপ্ন দেখার শক্তি জোগায়। তেমনই এক নীরব, অনুপ্রেরণাময় ও স্বপ্নছোঁয়া গল্পের নাম আতিকুর রহমান রুমন।
কিছু দলের ষড়যন্ত্র বিএনপির বিরুদ্ধে
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের অতিরিক্ত প্রেস সচিব এবং জনপ্রিয় জাতীয় 'দৈনিক দিনকাল' পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আতিকুর রহমান রুমন। দায়িত্ব, আস্থা ও আদর্শের এক অনন্য উচ্চতায় আজ তিনি অধিষ্ঠিত। তাঁর এই পথচলার গল্প ছড়িয়ে আছে যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস, তুরস্ক, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, বাহরাইন ও চীনসহ বিশ্বের নানা প্রান্তে। বর্তমানে তিনি তাঁর স্ত্রী ও একমাত্র কন্যা জাজিয়া রহমানকে নিয়ে ঢাকায় বসবাস করছেন।
ব্যস্ত রাজনৈতিক ও পেশাগত জীবনের মাঝেও তাঁর হৃদয়ের সবচেয়ে কোমল জায়গাটি জুড়ে আছে তাঁর একমাত্র আদরের কন্যা। জীবনের প্রতিটি সাফল্যের পেছনে যেমন ছিল পিতা-মাতার দেওয়া আদর্শ, তেমনি ছিল কন্যার প্রতি নির্মল ভালোবাসা। জীবনের কঠিন সময়গুলোতে যখন চারপাশের পথ অন্ধকার হয়ে উঠেছে, তখন ছোট্ট কন্যার হাসি আর স্নেহই তাঁকে নতুন করে পথ চলার সাহস জুগিয়েছে। ত্যাগ, সংগ্রাম ও মানবিকতায় সফলতার শীর্ষে পৌঁছানোর এই গল্প আমাদের ফিরিয়ে নেয় তাঁর শিকড়ের কাছে - শৈশব, বেড়ে ওঠা আর মূল্যবোধে গড়া সেই আদর্শের গল্পে। যেখান থেকেই শুরু হয়েছিল তাঁর জীবনের স্বপ্নছোঁয়া নিভৃত পথচলা।
১৯৭৫ সালের ১৫ মে, বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলার পদ্মপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আতিকুর রহমান রুমন। সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারে জন্ম ও বেড়ে ওঠা তাঁর শৈশব ছিল সাদামাটা অথচ মূল্যবোধে সমৃদ্ধ। তাঁর পিতা মরহুম হাফিজুর রহমান ছিলেন একজন সৎ ও নিষ্ঠাবান সরকারি কর্মকর্তা এবং সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় একজন মানবিক ব্যক্তিত্ব। সততা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ - এই তিন গুণেই তিনি ছিলেন অনুকরণীয়। অন্যদিকে তাঁর মাতা মরহুমা ফেরদৌসী বেগম ছিলেন এফ.এইচ. ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং মমতা, মানবিকতা ও সহমর্মিতার প্রতীক। দানশীলতা ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের জন্য সুপরিচিত এই মহীয়সী নারী অসহায় ও দুস্থ মানুষের সহায়তায় ছিলেন অগ্রণী ভূমিকার অধিকারী। মানবিকতা ছিল তাঁর ব্যক্তিত্বের অলংকার, আর মানুষের কল্যাণ ছিল তাঁর জীবনের ব্রত। এমন আদর্শিক ও মানবিক পরিবেশেই বেড়ে ওঠেন আতিকুর রহমান রুমন। পরিবার থেকে পাওয়া এই শিক্ষা ও মূল্যবোধই ছোটবেলা থেকেই তাঁর মনে মানুষের জন্য কিছু করার গভীর আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি করে। মাত্র সাড়ে পাঁচ বছর বয়সেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ তাঁর মনে গভীরভাবে প্রভাব ফেলে।
মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করার গভীর আকাঙ্ক্ষা থেকেই নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন এবং সেখান থেকেই তাঁর রাজনীতির পথচলার সূচনা। ছাত্রজীবন থেকেই নেতৃত্বগুণ, সাহসিকতা ও দায়িত্ববোধের পরিচয় দিতে শুরু করেন রুমন। নব্বইয়ের উত্তাল রাজপথে তিনি ছিলেন একজন তুখোড় ছাত্রনেতা। দেশের গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার এবং রাজনৈতিক চেতনার প্রশ্নে তিনি ছিলেন সক্রিয় ও সোচ্চার। নানান প্রতিকূলতা, সংগ্রাম ও ত্যাগের মধ্য দিয়েই ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের ভিত্তি।
মানবিক রাজনীতির পাশাপাশি সাংবাদিকতার প্রতিও ছিল আতিকুর রহমান রুমনের গভীর আগ্রহ। মানুষের কথা বলা, সমাজের বাস্তবতা তুলে ধরা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলম ধরার তাগিদ থেকেই শুরু হয় তাঁর সাংবাদিকতার পথচলা। উত্তরাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি শাহ সুলতান কলেজে পড়াশোনার সময় ছাত্র রাজনীতির পাশাপাশি সাংবাদিকতার জগতে তাঁর হাতেখড়ি হয়। ১৯৯৩ সালে বগুড়া থেকে প্রকাশিত 'দৈনিক আজ ও আগামীকাল' পত্রিকায় নিজস্ব প্রতিবেদক হিসেবে যোগদানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তাঁর পেশাদার সাংবাদিকতা জীবন। শুরু থেকেই তাঁর লেখনী ছিল স্পষ্ট, সাহসী এবং বাস্তবতানির্ভর। দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা, সমাজের অসঙ্গতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম বারবার উঠে এসেছে তাঁর লেখায়। ফলে ধীরে ধীরে একজন সচেতন, চিন্তাশীল সাংবাদিক ও কলামিস্ট হিসেবে পাঠকমহলে তিনি আলাদা একটি পরিচিতি লাভ করতে শুরু করেন।
পরবর্তীতে তিনি যোগ দেন জাতীয় 'দৈনিক দিনকাল' পত্রিকায়। সেখানে তিনি বগুড়া ব্যুরো প্রধান, পরে ঢাকা অফিসে নিজস্ব প্রতিবেদক, সিনিয়র প্রতিবেদক ও বিশেষ প্রতিবেদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি অনলাইন নিউজপোর্টাল বিডি প্রেস ডটনেট-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন রুমন। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান তাঁর মালিকানাধীন জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম 'দৈনিক দিনকাল' পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও প্রকাশকের পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্তফা দেন। পরবর্তীতে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়ে পত্রিকাটির নতুন সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন আতিকুর রহমান রুমন।
অনেকের মতে, প্রিয় নেতার প্রতি রুমনের অকৃত্রিম শ্রদ্ধা, দীর্ঘদিনের আদর্শিক পথচলা এবং নীরব নিষ্ঠাই তাঁকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের আসনে পৌঁছে দিয়েছে। এছাড়াও রুমন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য এবং “আমরা বিএনপি পরিবার” নামে মানবিক ও সামাজিক সেবামূলক সংগঠনের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৪ সালের ২২ মার্চ বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের দিকনির্দেশনায় গঠিত সংগঠনটি গুম, খুন ও পঙ্গুত্বের শিকার নেতাকর্মী এবং তাঁদের পরিবারসহ বিপর্যস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ায়। আতিকুর রহমান রুমন এই সংগঠনের কার্যক্রমকে কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ রাখেননি, বরং সংকটের মুহূর্তে প্রিয় নেতার নির্দেশে দেশের আনাচে-কানাচে মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন মানবিক সহায়তা।
আতিকুর রহমান রুমন তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময় পার করেছেন সংগ্রামে। নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু করে ওয়ান ইলেভেন পেরিয়ে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা বিরোধী আন্দোলন, স্বৈরশাসকদের মৃত্যুলাশের ওপর দাঁড়িয়ে নৃত্য করার পৈশাচিকতায় শিউরে ওঠে বিশ্ব। অভাবনীয় দৃষ্টিতে দেখা ঘৃণিত পৈশাচিকতায় ভয়াবহ নগ্নতা। অবৈধ সরকারের সীমাহীন নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয় দেশের প্রায় সব শ্রণি-পেশার মানুষ। মামলা-অভিযোগ ছাড়াই আটক, জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন, অর্থ-বাণিজ্য ও রাজনীতিতে নেতৃত্বশূন্য করার হীন পরিকল্পনায় একের পর এক আটক হন দেশের বর্ষীয়ান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও বুদ্ধিজীবীরা।
২০০৬ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশপরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকার দেশছাড়া আওয়ামী লীগ নামক জগদ্দল পাথরের দুঃশাসনে ক্ষত-বিক্ষত দেশের হাজার হাজার মানুষ। সীমাহীন গুম, খুন, অপহরণ ও নির্মম নির্যাতনে নির্যাতিত সকল সাধারণ মানুষ, যা বিএনপি নেতাকর্মীদের জন্য ছিল নিত্যদিনের বাস্তবতা। দেশের মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে সরকার গঠন, বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে লাঠিচার্জ ও গুলি, ছাত্রদল-যুবদলের ওপর দমন সবই ছিল ইতিহাসের নৃশংস অধ্যায়। এতো এতো নির্যাতন-নিপীড়ন কোন কিছুই যেন গায়ে মাখেননি রুমন।
দলের চরম দুঃসময়ে হিমালয় পর্বতের ন্যায় দৃঢ় বুক দিয়ে আগলে রেখেছেন ছাত্রদল, যুবদলসহ সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন এবং ভেঙে পড়া অসংখ্য নেতাকর্মীর শত শত স্বপ্ন। ভেঙে পড়া স্বপ্নগুলোকে জোড়া লাগানোর কাজে তিনি ছিলেন অক্লান্ত আর প্রধান হাতিয়ার ছিল সাহসী কলম তাঁর নিরন্তর অস্ত্র। কারও চোখে তিনি আশার আলো, কখনও কারও কাঁধে ছিলেন সাহসের হাত। দীর্ঘ সতেরোটি বছর বুকভরা ব্যথা আর চোখভরা অশ্রু নিয়ে পালন করেছেন জিয়া পরিবারের সকল সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম। সততা, ন্যায়নিষ্ঠা ও নির্লোভ জীবনযাপনের কারণে তিনি ধীরে ধীরে পরিণত হন জিয়া পরিবারের এক আনসিন আর্মি হিসেবে এবং পরিবারটিকে আগলে রাখেন সততার দেয়াল ও বিশ্বাসের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে। নীরবে নিভৃতে ভেজা কণ্ঠে মহান সৃষ্টিকর্তার সুবিচার কামনায় অবিচল থাকা এই মানুষটির সংগ্রামের ফল অবশেষে মিলেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ, সাবেক তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার দেশপ্রেম এবং বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি গভীর আস্থা ও শ্রদ্ধা হৃদয়ে ধারণ করে দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কর্মকাণ্ডে নিজেকে তিনি সম্পৃক্ত রেখেছেন - নিষ্ঠা ও নীরব পরিশ্রমের মাধ্যমে। রাজনীতির পথে নানা প্রতিকূলতা, চাপ এবং ব্যক্তিগত সংগ্রামের মুহূর্তেও তিনি কখনো দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াননি। বরং প্রতিটি কঠিন সময়েই অবিচল থেকেছেন তাঁর আদর্শের জায়গায়।
সময় গড়িয়ে এখন ২০২৬ সাল। জনতার জনন্দিত জননেতা জনাব তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। ফ্যাসিস্ট ফখরুদ্দীন-মইনুদ্দিন ও শেখ হাসিনার নির্মম দুঃশাসন পেরিয়ে সুজলা, সুফলা, শস্য-শ্যামলা অপূর্ব রূপসী বাংলাদেশে বইছে এখন আশার হাওয়া - ‘তারেক বসন্ত’। ৫৬ হাজার বর্গমাইলের আনাচে-কানাচে জনাব তারেক রহমান ছুটে চলছেন জনতার দ্বারে দ্বারে, পিতৃভূমি বগুড়ার গাবতলীর গর্বিত সন্তান আতিকুর রহমান রুমনকে বিশ্বস্ত সঙ্গী রেখে। কখনও একই গাড়িতে, কখনও একই উড়োজাহাজে - স্বনির্ভর, গণতান্ত্রিক, আধুনিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে।
চরম দুঃসময় ছিল যার জীবনে নিত্যসঙ্গী, সেই আঁধার পেরিয়েই আতিকুর রহমান রুমন আজ হয়ে উঠেছেন জীবন্ত এক কিংবদন্তি। দীর্ঘ দুঃশাসনের সময়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হলেও দেশ ছাড়েননি তিনি। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস ঘরছাড়া জীবন কাটিয়েছেন, তবুও অবিচল থেকেছেন প্রিয় নেতার নির্দেশনায় ও তাঁর প্রতি অফুরন্ত ভালোবাসায়। রুমনের ঘনিষ্ঠদের মতে, সেই কঠিন সময়গুলোতে তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছিল তাঁর একমাত্র কন্যা জাজিয়া রহমান। একজন পিতার আবেগ, দায়িত্ববোধ এবং কন্যার নিষ্পাপ ভালোবাসা তাঁকে প্রতিনিয়ত নতুন শক্তি দিয়েছে।
ব্যক্তিজীবনের সবচেয়ে গভীর বেদনা ছিল তাঁর প্রিয় মা-বাবার না–ফেরার দেশে চলে যাওয়া। সেই শূন্যতা কোনোদিনই পূরণ হওয়ার নয়। কিন্তু জীবনের সেই শূন্যতার মাঝেই তাঁর কন্যা যেন হয়ে উঠেছিল মমতার এক কোমল আশ্রয়। কন্যার হাসি, তার মায়াভরা ডাক আর নিষ্পাপ ভালোবাসার ভেতরেই তিনি যেন বারবার খুঁজে পেয়েছেন হারিয়ে যাওয়া মায়ের স্নেহের ছায়া। সময়ের ঝড়, রাজনীতির চাপ এবং জীবনের দুঃসময় তাঁকে ভাঙতে পারেনি - সম্ভবত এ কারণেই। কারণ একজন মানুষের ভেতরে যদি পিতার আদর্শ, মায়ের স্মৃতি এবং সন্তানের ভালোবাসা একসাথে বেঁচে থাকে, তবে তাকে থামিয়ে রাখার মতো শক্তি পৃথিবীতে খুব কমই থাকে।
নব্বই দশকের তুখোড় ছাত্রনেতা থেকে আজকের ছাত্রসমাজের অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠার গল্পের নায়ক আতিকুর রহমান রুমন এখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও গণমাধ্যম জগতের প্রতিটি কর্মীর হৃদয়রাজ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই পথচলা কেবল একজন রাজনীতিক বা সাংবাদিকের গল্প নয়। এটি একজন মানুষের ত্যাগ, আদর্শ, ভালোবাসা এবং নীরব সাফল্যের গল্প - যেখানে পিতা-মাতার দেওয়া মূল্যবোধ এবং সন্তানের নির্মল ভালোবাসা তাঁকে আজও সামনে এগিয়ে চলার প্রেরণা জোগাচ্ছে।


