কে এই ডলার? রামিসা হত্যা মামলায় বাড়ছে রহস্য

ছবি : সংগৃহীত
০১ জুন ২০২৬, ০৪:২৭ পিএম
রামিসা হত্যা মামলায় নতুন মোড়, আদালতে ‘ডলার’ নামের রহস্যময় ব্যক্তির দাবি সোহেলের
পিএসসির নতুন ৭ সদস্যের শপথ
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তার হত্যা মামলার চার্জ গঠনের শুনানিতে নতুন মোড় এসেছে। আদালতে তোলার সময় মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে নির্দোষ দাবি করে ‘ডলার’ নামে এক ব্যক্তিকে প্রকৃত অপরাধী হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তবে এই ‘ডলার’ কে—তা নিয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে মামলাটিতে নতুন রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।সোমবার (১ জুন) চার্জ গঠনের শুনানির জন্য কারাগার থেকে সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। সকাল থেকেই তাদের আদালতে আনা হয় এবং বেলা ১১টার পর বিচারকের এজলাসে তোলা হয়।
আদালতে নেওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সোহেল রানা দাবি করেন, ঘটনার পেছনে ‘ডলার’ নামে এক ব্যক্তির ভূমিকা রয়েছে। তিনি বলেন, তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার কোনোভাবেই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন এবং তাকে ভুলভাবে আসামি করা হয়েছে।
একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ডিএনএ পরীক্ষা যথাযথভাবে না করেই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। ডলারের পরিচয় সম্পর্কে জানতে চাইলে সোহেল রানা বলেন, তিনি মিরপুর-১১ এলাকার একজন ধনাঢ্য ব্যক্তি। তবে ওই ব্যক্তির পূর্ণ পরিচয় বা অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “মেইন আসামি ডলারকে ধরেন, সে-ই রামিসাকে হ‘ডলার’ কে? তদন্তেও অজানা পরিচয়
সোহেল রানার এই বক্তব্যের পর মামলায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে ‘ডলার’ নামটি। তবে তদন্ত-সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ফলে সোহেল রানার উত্থাপিত ‘ডলার’ পরিচয় আপাতত রহস্যই রয়ে গেছে। বিষয়টি তদন্তসংশ্লিষ্টরা যাচাই-বাছাই করছেন বলে জানা গ‘ম্যাটার অব ট্রায়াল’ বলছে রাষ্ট্রপক্ষ
ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (স্পেশাল পিপি) আজিজুর রহমান দুলু সোহেল রানার বক্তব্যকে ‘ম্যাটার অব ট্রায়াল’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, আসামি যেসব বিষয় তুলে ধরেছেন, সেগুলো বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ। এসব বক্তব্যের ভিত্তিতে কোনো মামলার ডিসচার্জ হয় না।
তার ভাষায়, “পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে যেসব তথ্য পাওয়া যায়নি, সেগুলো নিয়ে প্রসিকিউশনের কিছু বলার নেই। আর ডিফেন্স থেকে যা বলা হচ্ছে, সেগুলো ম্যাটার অব এভিডেন্স। সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে সেগুলোর সত্যতা নির্ধারণ হবে।”
তিনি আরও বলেন, মামলার নথিপত্র, তদন্ত প্রতিবেদন এবং আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে রাষ্ট্রপক্ষ সর্বোচ্চ শাস্তির প্রত্যাশা করছে।“নৃশংস এই হত্যাকাণ্ড ও ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হবে বলে আমরা আশাবাদী,” যোগ করেন তিনি।


