দৌলতদিয়ায় পদ্মায় পড়ে যাওয়া যাত্রীবাহী বাস উদ্ধার

ছবি : সংগৃহীত
০৫ জুন ২০২৬, ০৩:০৪ পিএম
দৌলতদিয়ায় পদ্মায় পড়ে যাওয়া যাত্রীবাহী বাস উদ্ধার, অল্পের জন্য রক্ষা পেল ৪০ প্রাণ
মালয়েশিয়া সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতার বার্তা প্রধানমন্ত্রীর
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটের পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়া যাত্রীবাহী বাসটি প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ বাসটিকে টেনে তুলে ঘাটে থাকা কে-টাইপ ফেরি ‘করবী’র ওপর নিয়ে আসে।
এর আগে সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে ‘এসবি সুপার ডিলাক্স’ পরিবহনের একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে র্যাম্প ভেঙে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। তবে সৌভাগ্যক্রমে বাসের সব যাত্রী আগে থেকেই নেমে যাওয়ায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। দুর্ঘটনার পরপরই বাসের চালক ও তাঁর সহকারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বাসে থাকা যাত্রীদের মালামাল যথাযথ প্রমাণের ভিত্তিতে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ থেকে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে।
গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন বাসচালক ঝন্টু আলী (৪৮) জানান, শুক্রবার সকাল সোয়া ৭টার দিকে কুষ্টিয়ার মদনপুর থেকে ৩৭ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন তিনি। দৌলতদিয়া ঘাটে পৌঁছানোর পর নিয়ম অনুযায়ী যাত্রীদের বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। পরে ফেরিতে ওঠার জন্য বাস চালু করলে হঠাৎ ব্রেক বিকল হয়ে যায়। নিয়ন্ত্রণ হারানো বাসটি ফেরির র্যাম্পে সজোরে ধাক্কা দেয় এবং র্যাম্প ভেঙে নদীতে পড়ে যায়। পরে তিনি জানালা দিয়ে বের হয়ে প্রাণে রক্ষা পান।
বাসটির যাত্রী ও বিজিবি সদর দপ্তরের নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজের শিক্ষক আবদুস সালাম বলেন, “প্রথমে বাস থেকে নামতে চাইনি। পরে নৌ পুলিশের অনুরোধে নেমে যাই। কয়েক সেকেন্ড পরই বাসটি নদীতে পড়ে যায়। এখন মনে হচ্ছে, আল্লাহ আমাদের রক্ষার জন্যই পুলিশকে পাঠিয়েছিলেন।”
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন জানান, ঘাটে পৌঁছানোর পর হ্যান্ডমাইকে যাত্রীদের নেমে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয় এবং পুলিশও এতে সহযোগিতা করে। যাত্রীরা নেমে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়।
জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, “সবার সচেতনতার কারণেই আজ বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, গত ২৫ মার্চ কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর একটি বাস দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে ওঠার সময় পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। সেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ২৬ জন যাত্রী প্রাণ হারিয়েছিলেন। এবারও একই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলেও যাত্রীদের আগে নামিয়ে দেওয়ায় অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে প্রায় ৪০টি প্রাণ।


