৩ ফুটের মধ্যেও শিশুর নিরাপত্তা নেই : রামিসার বাবা

ছবি : সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ০২:৪০ পিএম

একই ভবনের এক ফ্ল্যাট থেকে আরেক ফ্ল্যাটের দরজার দূরত্ব মাত্র তিন ফুট। অথচ এই অল্প দূরত্বের মধ্যেও নিজের সন্তানকে নিরাপদ রাখতে না পারার গভীর বেদনা ও ক্ষোভের কথা তুলে ধরেছেন ধর্ষণের পর হত্যা করা আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।


টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে পালালেন গৃহবধূ

তিনি বলেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু রাষ্ট্রের একক দায়িত্ব নয়; পরিবার, প্রতিবেশী ও পুরো সমাজকেই এতে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। একই সঙ্গে তিনি তাঁর মেয়ের হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার এবং সর্বোচ্চ শাস্তির জোর দাবি জানান।


শনিবার (৬ জুন) রাজধানীতে নিপীড়িত নারী ও শিশুদের আইনি ও স্বাস্থ্য সহায়তা সেল আয়োজিত ‘বাংলাদেশে শিশু নির্যাতন বৃদ্ধি ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে কান্নাজড়িত কণ্ঠে এসব কথা বলেন মিরপুরের পল্লবীতে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করা আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।

তিনি আরও বলেন, “আমার সন্তান যদি সমাজের এমন নৃশংসতার শিকার হয়, তাহলে এর দায় শুধু পরিবারের নয়; সমাজ ও রাষ্ট্রকেও এর জবাবদিহি করতে হবে। আমি আমার রামিসা হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই। বাংলাদেশের আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করি এবং সেই শাস্তি যেন দ্রুত কার্যকর হয়—এটাই আমার শেষ দাবি।”

এদিকে শিশু রামিসা হত্যা মামলার রায় ঘোষণার জন্য আগামী ৭ জুন (রোববার) দিন ধার্য করেছেন আদালত। গত বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে এ তারিখ নির্ধারণ করেন।


রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তিতর্কে আদালতকে জানায়, সাক্ষীরা আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন। তাই প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের আবেদন জানানো হয়।


পারে অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মুসা কালিমুল্লাহ দাবি করেন, এ মামলায় কোনো ডিএনএ পরীক্ষা হয়নি এবং আশপাশের কোনো সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করা হয়নি। রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আসামিদের খালাস চান।


আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২ জুন এ মামলায় ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। সাক্ষীদের জবানবন্দিতে রামিসাকে খোঁজাখুঁজি, সন্দেহভাজন ফ্ল্যাট শনাক্ত, রক্তের আলামত উদ্ধার এবং মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাগুলো উঠে আসে। পাশাপাশি প্রধান আসামি সোহেল রানার পলায়নে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের সহায়তার বিষয়টিও প্রকাশ পায়।

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে বলেন, “আমিও দোষ করছি, ডলারও দোষ করছে স্যার। আমাকেও সাজা দেন, ওকেও দেন।” তবে তিনি তাঁর স্ত্রীকে নির্দোষ দাবি করেন।

অন্যদিকে স্বপ্না আক্তার আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, “আমি কিছু করিনি স্যার, আমি নির্দোষ।”

উল্লেখ্য, উভয় আসামির বক্তব্য রেকর্ড শেষে আদালত রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেন।

রামিসার বাবা
শিশুর নিরাপত্তা
রামিসা