চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোরে বাংলাদেশ

ছবি : সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৭ জুন ২০২৬, ০৫:০১ পিএম

বাংলাদেশ, মিয়ানমার এবং চীনকে সংযুক্ত করে একটি নতুন অর্থনৈতিক করিডোর গড়ে তোলার প্রস্তাব উঠে এসেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকে। একইসঙ্গে তিস্তা মহাপরিকল্পনা, বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও ছিল আলোচনার কেন্দ্রে।


সামাজিক সুরক্ষায় যুক্ত হচ্ছে ৩ নতুন কর্মসূচি, বরাদ্দ ১৪ হাজার ৫১০ কোটি টাকা

চীন সফরের শেষ দিনে বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে মুখোমুখি বৈঠকে বসেন দুই দেশের শীর্ষ নেতা। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানান, বাংলাদেশ ও চীন তাদের বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও গভীর ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্বে রূপ দিতে একটি নতুন কর্মপরিকল্পনায় একমত হয়েছে।


এই সফরে শুধু প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নয়, চীনের প্রধানমন্ত্রী, শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং শিল্প সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়টি।

সফরের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি ছিল বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর। এই করিডোর বাস্তবায়িত হলে আঞ্চলিক যোগাযোগ, বাণিজ্য ও পরিবহন ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়া তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে কারিগরি সহায়তা ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন। একইসঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরকে আঞ্চলিক ট্রানজিট হাবে উন্নীত করা, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন এবং সড়ক, রেল ও সেতুভিত্তিক সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

মাহদী আমিন জানান, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের আলোচনার ভিত্তিতে ১৬ দফার একটি যৌথ ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।

এদিকে, এই সফরের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক এবং আরও ৪টি অতিরিক্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এসব চুক্তির আওতায় বিনিয়োগ, সবুজ উন্নয়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অবকাঠামো সহযোগিতার মতো বিভিন্ন খাত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

চীন আরও জানিয়েছে, আনোয়ারা ও মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন প্রকল্পেও তারা বাংলাদেশের পাশে থাকবে।

অন্যদিকে, বৈঠকের পর প্রকাশিত চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি পূর্ণ সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি যেকোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে বেইজিং।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধান, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং ব্রিকস সদস্যপদ অর্জনের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে চীন।

সরকার গঠনের পর এটিই ছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর। মালয়েশিয়া সফর শেষে চীনে গিয়ে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের মাধ্যমে ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এখন দেখার বিষয়, চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোরের প্রস্তাব বাস্তবায়নের দিকে কতটা অগ্রগতি হয় এবং এই উদ্যোগ বাংলাদেশের অর্থনীতি, আঞ্চলিক বাণিজ্য ও ভূরাজনীতিতে কী ধরনের নতুন প্রভাব ফেলে।