ওসির দ্বারা নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করার পাঁয়তারা সরকারবিরোধী চক্রের

ছবি : সংগৃহীত
২৮ জুন ২০২৬, ০৪:৩৪ পিএম
সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশের ন্যায় বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনে বিপুল ভোটে বিজয় অর্জন করে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ। তার বিপুল ভোটে বিজয়ের ভূমিকায় বিএনপির প্রতীক, দলীয় নেতাকর্মী, সর্বোপরি তাহার সুযোগ্য সন্তান উদীয়মান নেতা আসিফ সিরাজ রব্বানীর ব্যক্তিগত তৎপরতা যুব ও ছাত্রসমাজের ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়ায় শেরপুরে এই প্রথম ধানের শীষ প্রতীকে এত ভোট। তিনি তার পিতা জিএম সিরাজের মতোই একজন কৃতিসন্তান। গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ তার পিতা গোলাম রব্বানী ও মাতা বেগম সেতারা রব্বানীর গর্বিত সন্তান হিসেবে পিতার চেয়েও বিপুল জনপ্রিয়তার মাধ্যমে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসছেন। তেমনি আগামী দিনের শেরপুর-ধুনটের মানুষের প্রিয় নেতা ও প্রিয় মুখ হয়ে উঠছেন সংসদ সদস্যের সুযোগ্য কৃতিসন্তান। যিনি তার পিতার চেয়েও বেশি মেধাবী, বিজ্ঞ, কর্মদক্ষ, সৎ ও তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব উঠতি বয়সের নারী-পুরুষের কাছে ব্যাপক গ্রহণযোগ্য। পাশাপাশি প্রবীণদের নিকট ব্যাপক গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে তার আগমনের সুবর্ণ সময় গণনার শুভ মুহূর্তটি শুরু করল ঢাকা থেকে প্রকাশিত সুনামধন্য জাতীয় দৈনিক আওয়ার বাংলাদেশ।
ভোটের মাঠে ৬৫৫ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করে তুলতে সরকারি প্রশাসনে ব্যাপক পরিবর্তন সাধীত হয়। যার অংশ হিসেবে বগুড়া-৫ সংসদীয় এলাকায় শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে শেরপুর থানার সংযুক্ত থানা সিরাজঞ্জ জেলার তাড়াশের বাসিন্দা ওসি এসএম মঈনুদ্দীনকে শেরপুর থানায় দায়িত্ব প্রদান করা হয়। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে তার ভূমিকা তেমন গুরুত্বপূর্ণ না হলেও কতিপয় নেতার ব্যক্তিগত খায়েশ পূরণ করতে বদলিকৃত ওসি মঈনুদ্দীনকে পুনরায় শেরপুর থানায় বদলি করে এনে বিরোধী চক্রের হাতে প্রমাণিত তীর তুলে দিয়েছে বিএনপির কতিপয় উচ্চবিলাসী নেতারা।
যারা ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য পূর্বে বিতর্কিত ওসি মইনুদ্দিনকে দ্বিতীয়বার তদবিরের মাধ্যমে তার বদলি আদেশ স্থগিত করার ঘটনা সরকারবিরোধী চক্রের কাছে প্রমাণিত তীর। যার বিষাক্ত আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হবে বগুড়ার কৃতিসন্তান বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন গঠিত সরকার। কেননা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্বপ্রদান করা ওসিকে স্থায়ী বিএনপির সরকারের বিপথগামী এই চক্রের অসাবধানতা ও উচ্চ লালসায় সরকারের সমালোচনা করার প্রমাণিত অস্ত্রটি তারা নিজেরাই তুলে দিয়েছে বিরোধী চক্রের হাতে।
উল্লেখ করা যায়, বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) এর নির্বাচিত সংসদ সদস্য ১৯৯১ সাল থেকে সুদীর্ঘ দিন বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে সততা, নিষ্ঠা ও বিচক্ষণতার সাথে এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ায় বিরাট ভোট ব্যাংক তাহার গচ্ছিত থাকলেও ২০২৬ সালের নির্বাচনে গচ্ছিত ভোটারের চেয়ে অধিক ভোট পেয়েছে তার সুযোগ্য সন্তানের ব্যাপক কর্মতৎপরতা, শ্রম, মেধা, নেতৃত্বের বলিষ্ঠতার দ্বারা। এখানে প্রশাসনের, বিশেষ করে শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা (ওসি) মঈনুদ্দীনের কোনো ভূমিকা বা অবদান এত ভোট অর্জনে নেই। তারপরও তার মতো একজন ওসিকে নির্বাচিত সরকারের কতিপয় উচ্চবিলাসী নেতা তদবিরের মাধ্যমে শেরপুর থানায় দায়িত্ব পালনের সুযোগ করে দিলেও, শেরপুর থানায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো অবদানই নেই।
বিশেষ করে ওসি মইনুদ্দিন নিজেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিশ্বস্ত ব্যক্তি হিসেবে জাহির করতে মুখে দাড়ি সাইনবোর্ড লাগান, যাতে জামায়াতে ইসলামীর লোকজন সহজেই জানতে পারে ওসি তাদের। এ অভিযোগ এই প্রতিবেদকের নয়। সচেতন শেরপুরের মানুষ ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা মঈনুদ্দীনের দাড়ি মোবারককে নবীজির সুন্নত হিসেবে না জেনে জানছেন জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক হিসেবে। ওইসব নিম্নমনের অধিকারী মানুষদের সঙ্গে প্রতিবেদক একমত নয়। কেননা, দাড়ি মোবারক মহান আল্লাহ তায়ালার বিশেষ এক নিয়ামত এবং সর্বশেষ নবী, বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর সুন্নত। তার জন্য এই প্রতিবেদক ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছে ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা মঈনুদ্দীনের দাড়ি মোবারকের জন্য।
তিনি বিশ্ব ও দয়াল নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর দাড়ি মোবারকের জন্য আমাদের কাছে বিশেষ সম্মানিত ব্যক্তি হিসেবে সম্মান প্রদান অব্যাহত রাখা হবে। অন্যদিকে, ওসি শেরপুর থানায় যোগদান করার পর অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য, যেমন - বাংলা মদ, ফেনসিডিল, হেরোইন, ইয়াবা ট্যাবলেট রাখা ও বিক্রয়। অভিযোগে বগুড়া জেলা মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ঘন ঘন অভিযান পরিচালনা করে মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের আটক ও মোবাইল কোর্টের শাস্তির মাধ্যমে মাদকদ্রব্য প্রতিরোধে ভূমিকা পালন করলেও, উদাসীন শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা মঈনুদ্দীনের নেতৃত্বাধীন পুলিশের সদস্যরা। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত।
ইতিপূর্বে বিশালপুর ইউনিয়নের বউবাজার এলাকায় যুবলীগের প্রভাবশালী নেতা আরিফের মাধ্যমে ইয়াবা, হেরোইনসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য বিক্রয় ও হস্তান্তর করার বিষয়টি শেরপুর থানার ওসি মঈনুদ্দীনকে একাধিকবার জানানো হলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। এ ব্যাপারে বগুড়ার সুযোগ্য পুলিশ সুপার মাদক ব্যবসায়ী আরিফকে আটক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশ দিলেও উপেক্ষিত হয়েছে এসপির নির্দেশও। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মাদক বিক্রয়কারী আরিফ ও তার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে আইনি কোনো পদক্ষেপ শেরপুর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়নি। একইভাবে শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর, কুসুম্বী, গাড়িদহ, সুঘাট ও খামারকান্দিসহ বিভিন্ন স্পটে প্রকাশ্যে মাদকদ্রব্য হাতবদল হলেও দেখে সাধারণ মানুষ। পুলিশের চোখে না পড়ায় হতাশ শেরপুরের মানুষ।
বিশেষ দ্রষ্টব্য : ইতোপূর্বে একই পত্রিকায় ওসির কর্মগুণের প্রশংসা করলেও আজ কর্মগুণেই তিনি বিতর্কিত। শুধু বিতর্কই নয়, সরকারের ব্যাপক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন এই ওসি। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন তিনি।


