অনলাইন জুয়া ঠেকাতে কঠোর আইন

ছবি : সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩০ জুন ২০২৬, ০৮:৪৮ পিএম

জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’। এর মাধ্যমে বাতিল করা হয়েছে প্রায় দেড়শ বছর পুরোনো ১৮৬৭ সালের ‘দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট’। আজ মঙ্গলবার সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর অনলাইন জুয়ার বিস্তার ঠেকাতে পুরোনো আইন আর কার্যকর ছিল না। তাই সময়ের বাস্তবতায় নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।


ছাত্রদলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র

নতুন আইনে সাধারণ জুয়ার জন্য সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড অথবা দুই লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আর অনলাইন বা দূরবর্তী জুয়ার ক্ষেত্রে শাস্তি আরও কঠোর। এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং এক কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। সবচেয়ে কঠোর শাস্তি রাখা হয়েছে অনলাইন বেটিং পরিচালনা বা এর সঙ্গে সম্পৃক্ততার জন্য। এ অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড হতে পারে।


এ ছাড়া ম্যাচ ফিক্সিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও এক কোটি টাকা জরিমানা, আর স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

জুয়ার বিজ্ঞাপন, স্পন্সরশিপ, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বা রেফারেল ক্যাম্পেইন পরিচালনার ক্ষেত্রেও শাস্তির বিধান রয়েছে। ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, ইনফ্লুয়েন্সার, শিল্পী কিংবা খেলোয়াড়—যে কেউ এ ধরনের প্রচারণায় যুক্ত থাকলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে। আইনে ভিপিএন, প্রক্সি, মিরর সাইট, ক্রিপ্টোকারেন্সি, ভুয়া সিম বা ভুয়া মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনার বিরুদ্ধেও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

আর যদি সংঘবদ্ধভাবে বা অর্থপাচারের উদ্দেশ্যে এসব অপরাধ করা হয়, তাহলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড দেওয়া যাবে।

নতুন আইন অনুযায়ী, অপরাধে ব্যবহৃত ব্যাংক হিসাব, এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল ওয়ালেট, ক্রিপ্টো সম্পদ, সার্ভার, ডোমেইনসহ সংশ্লিষ্ট সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতাও আদালতকে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অনলাইন জুয়া ও বেটিং–সংক্রান্ত সব অপরাধের বিচার হবে সাইবার ট্রাইব্যুনালে। আইনের আওতায় এসব অপরাধকে আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য এবং আপস অযোগ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

সরকারের আশা, নতুন এই আইন প্রযুক্তিনির্ভর জুয়া, অনলাইন বেটিং, ডিজিটাল আর্থিক প্রতারণা এবং অর্থপাচার প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।