ভারতীয় গুজবের শিকার বাংলাদেশ সেনাবাহিনী
চার খলিফার নামে সেনাবাহিনীর নতুন ব্যাটেলিয়ন

ছবি : সংগৃহীত
০১ জুলাই ২০২৬, ০৬:২৬ পিএম
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে নতুন একটি ব্যাটালিয়নের চারটি কোম্পানির নাম রাখা হয়েছে ইসলামের চার খলিফার নামে। এই খবর প্রকাশের পর ভারতীয় কিছু সংবাদমাধ্যম একে সেনাবাহিনীর ‘ইসলামিকরণ’ বলে দাবি করেছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এটি কি সত্যিই ব্যতিক্রমী কোনো সিদ্ধান্ত, নাকি বিশ্বের অনেক দেশের সেনাবাহিনীতেই এমন ঐতিহ্য রয়েছে?
ঢাকার ৩৭ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে সম্প্রতি ‘দ্বিতীয় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’ উদ্বোধন করা হয়েছে। নতুন এই ব্যাটালিয়নের চারটি কোম্পানির নাম রাখা হয়েছে—হযরত আবু বকর (রা), হযরত উমর (রা), হযরত উসমান (রা) এবং হযরত আলী (রা)-এর নামে। সেনাবাহিনীর একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ক্যাডেটের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রশিক্ষণের সুবিধার্থেই নতুন ব্যাটালিয়ন গঠন করা হয়েছে। অন্যদিকে, প্রথম বাংলাদেশ ব্যাটালিয়নের ছয়টি কোম্পানির নাম রাখা হয়েছে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের বীরদের নামে।
এই নামকরণ নিয়ে ভারতের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ‘ইসলামিকরণের’ পথে এগোচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ভারতীয় সেনাবাহিনীতেও বহু ইউনিট, কোর ও রণধ্বনির নাম হিন্দু ধর্মীয় ঐতিহ্য ও পৌরাণিক প্রতীকের সঙ্গে যুক্ত।
ভারতের ১৭ কোরের নাম ‘ব্রহ্মাস্ত্র কোর’, ২১ কোর ‘সুদর্শন চক্র কোর’, ৩৩ কোর ‘ত্রিশক্তি কোর’, ১১ কোর ‘বজ্র কোর’ এবং ১০ কোর ‘চেতক কোর’। সম্প্রতি একটি এলিট ইউনিটের নামও রাখা হয়েছে ‘ভৈরব ব্যাটালিয়ন’, যা হিন্দু দেবতা শিবের এক রূপের নাম। শুধু ইউনিট নয়, ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিভিন্ন রেজিমেন্টের রণধ্বনিতেও রয়েছে ‘হর হর মহাদেব’, ‘বজরং বলী’, ‘ভবানী মাতা’, ‘দুর্গা মাতা’ ও ‘বদ্রি বিশাল’-এর মতো ধর্মীয় আহ্বান।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সেনাবাহিনীতে জাতীয় ইতিহাস, সংস্কৃতি কিংবা ধর্মীয় ঐতিহ্য অনুযায়ী ইউনিটের নামকরণ একটি দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতি। তাই শুধুমাত্র নামের ভিত্তিতে কোনো বাহিনীর আদর্শিক পরিবর্তনের সিদ্ধান্তে পৌঁছানো বাস্তবসম্মত নয়।
বাংলাদেশের নতুন ব্যাটালিয়নের কোম্পানির নাম নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলেও, একই ধরনের ঐতিহ্য ভারতের মতো দেশসহ বিশ্বের বহু সেনাবাহিনীতেই রয়েছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় তথ্য, প্রেক্ষাপট এবং তুলনামূলক বাস্তবতা—তিনটিই বিবেচনায় রাখা জরুরি।


