মোদিবিরোধী আন্দোলনে ১৭ হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া এগোচ্ছে

প্রতীকী ছবি

নিউজ ডেস্ক

১২ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম

২০২১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে আন্দোলনে নিহত ১৭ জনের হত্যাকাণ্ডের বিচারপ্রক্রিয়া এগোচ্ছে। এ ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে অভিযোগটি তদন্ত করছে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর তা বিচারার্থে ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হবে বলে প্রসিকিউশন সূত্র জানিয়েছে।


জুন মাসেই নির্যাতনের শিকার ৩৩৩ নারী ও কন্যাশিশু

২০২১ সালের ২৬ ও ২৭ মার্চ মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে হেফাজতে ইসলামসহ বিভিন্ন সংগঠন দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালন করে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ হয়। এতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও নারায়ণগঞ্জে ১৭ জন নিহত এবং কয়েক শ মানুষ আহত হন বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।


নিহতদের স্বজনদের পক্ষ থেকে দায়ের করা অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ তৎকালীন সরকারের কয়েকজন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, আন্দোলনকারীরা নিরস্ত্র থাকা অবস্থায় তাদের ওপর গুলি চালানো হয় এবং পরবর্তী সময়ে নিহত ও আহতদের পরিবারকে আইনি প্রতিকার থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আন্দোলন ঘিরে কয়েক হাজার মানুষকে আসামি করে বহু মামলা করা হয়। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ এখন তদন্তাধীন।

এদিকে ২০২১ সালের ওই ঘটনাসহ শেখ হাসিনা সরকারের আমলে সংঘটিত বিভিন্ন হত্যাকাণ্ড নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের সহিংসতা, ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ড এবং ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনার বিচার নিয়েও বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠেছে।

তবে এসব ঘটনার সঙ্গে ভারতের সম্পৃক্ততার বিষয়ে বিভিন্ন অভিযোগ ও দাবি থাকলেও সেগুলোর সবকটির স্বাধীনভাবে প্রমাণিত হওয়া এখনো নিশ্চিত নয়। বিশেষ করে পিলখানা হত্যাকাণ্ডে ভারতের সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে; এ বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার কথা।

হেফাজতের ৯ দফায় মোদিবিরোধী আন্দোলনের বিচার

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সৌজন্য সাক্ষাতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে নয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনা, ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবি রয়েছে।

হেফাজতের দাবির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সরকার কাজ করবে। একই সঙ্গে তিনি নিজেকে মুসলমান হিসেবে উল্লেখ করে ইসলামের পক্ষে থাকার কথা জানান।

মোদিবিরোধী আন্দোলনে নিহতদের স্বজনদের করা অভিযোগের তদন্ত শেষ হওয়ার পরই এ ঘটনায় বিচারিক কার্যক্রমের পরবর্তী ধাপ নির্ধারিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।