লাখো মানুষের অংশগ্রহণে হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত

২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:৪৭ পিএম
লাখো মানুষের অংশগ্রহণে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দুপুর আড়াইটায় এ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এছাড়া প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আলী রীয়াজ ও আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলসহ উপদেষ্টা পরিষদের অন্যান্য সদস্যরা অংশ নেন।
ফজলুর রহমানের বাসার সামনে বিক্ষোভ
জানাজার আগে হাদির জীবনবৃত্তান্ত পাঠ করেন ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন। এরপর বক্তব্য রাখেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। এরপর বক্তব্য রাখেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার পরপরই বক্তব্য রাখেন হাদির বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক।
এ সময় অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। আবু বকর সিদ্দিক জানাজার নামাজ পড়ান। এরপর হাদির মরদেহ নিয়ে রওনা দেয়া হয় শাহবাগের দিকে।
জানাজায় অংশ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান, এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও গণঅধিকারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা। যোগ দেন সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান। এছাড়া ঢাকা বাইরে বিপুলসংখ্যক মানুষ জানাজায় অংশ নেই।
এর আগে শনিবার সকাল থেকেই জানাজায় অংশ নিতে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জড়ো হতে শুরু করেন মানুষ। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও জানাজায় যোগ দিতে মানুষ আসেন। সংসদ ভবনের চারপাশে কানায় কানায় পূর্ণ হয় যায়। আসাদগেট, ফার্মগেট ও খামারবাড়িসহ আশপাশের এলাকা মানুষের ঢল নামে।
নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে দলে দলে লোকজন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে আসেন। সে সময় তাদের ‘আমরা সবাই হাদি হবো, যুগে যুগে লড়ে যাবো’, ‘হাদি ভাইয়ের রক্ত, বৃথা যেতে দেবো না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। হাতে ছিল জাতীয় পতাকা।
এর আগে সকাল ১১ টা ২০ মিনিটে খুলে দেয়া হয় সংসদ ভবনের প্রধান গেট। সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই সংসদ ভবনের সামনের সড়কে জড়ো হতে থাকেন মানুষ। জানাজা ঘিরে খামারবাড়ি ও ধানমন্ডি এলাকা হয়ে মানিকমিয়া অ্যাভিনিউয়ের প্রবেশমুখে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। লাইন ধরে সংসদ ভবন এলাকার সড়কে প্রবেশ করতে দেখা যায় তাদের। তারা সংসদ ভবনের প্রধান গেটের সামনে এসে জড়ো হচ্ছিলেন তখন। এরপর সকাল ১১টার ২০ মিনিটে সংসদ ভবনের প্রধান গেট খুলে দেয়া হয়।
এদিকে জানাজা ঘিরে কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বিপুল পরিমাণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি দেখা গেছে।
ওদিকে শাহবাগে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হতে যাচ্ছেন শরিফ ওসমান হাদি। শনিবার দুপুর ১২ টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশেই কাজী নজরুল ইসলাম স্কয়ারে তার কবর খোড়ার কাজ শুরু হয়।
গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর সোয়া ২টার দিকে রাজধানীর বিজয়নগরে রিকশায় করে যাওয়ার সময় ওসমান হাদির ওপর আক্রমণ করা হয়। ওই সময় মোটরসাইকেলে করে এসে দুজন তাকে খুব কাছ থেকে গুলি করে পালিয়ে যায়।
পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়। একপর্যায়ে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সোমবার এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে হাদিকে সিঙ্গাপুর নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই বৃহস্পতিবার তার মৃত্যু হয়।

