রাষ্ট্রপতি ও কালের কণ্ঠের বক্তব্যের প্রতিবাদ

ছবি : সংগৃহীত
২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম
রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের একটি সাক্ষাৎকার এবং তা ঘিরে প্রকাশিত ভিডিও কনটেন্টে নিজেদের নাম জড়ানোকে ‘সংঘবদ্ধ মিথ্যাচার’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জুলাই ঐক্য। সংগঠনটির দাবি, যে ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, সে সময় তাদের অস্তিত্বেই ছিল না।
বিএনপির নিয়ন্ত্রণ এখন ভারতের হাতে : অলি আহমদ
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানানো হয়।
ওই বিবৃতিতে জুলাই ঐক্য জানায়, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ প্রকাশিত ‘চমকানো তথ্য দিলেন রাষ্ট্রপতি’ শিরোনামের সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন ২২ অক্টোবর ২০২৪ বঙ্গভবন ঘেরাও প্রসঙ্গে বলেন- ‘অমুকের দল, তমুকের দল, মঞ্চ, ঐক্য- কত কী! রাতারাতি সৃষ্টি! এগুলো একই টাইপের লোকজন, বিভিন্ন ফোরামে বিভিন্ন নামে। কোথায় তারা এত টাকা পেল?’
পত্রিকায় সরাসরি জুলাই ঐক্যের নাম উল্লেখ না করা হলেও, সেই সাক্ষাৎকারের সূত্র ধরে একই দিন কালের কণ্ঠের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ‘রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগে চাপ, ‘নাটক মঞ্চস্থের’ অভিযোগ’ শিরোনামের একটি ভিডিওতে স্পষ্টভাবে জুলাই ঐক্যের নাম উল্লেখ করা হয়। ভিডিওটির ৩৪ থেকে ৫০ সেকেন্ড অংশে রাষ্ট্রপতিকে বলতে শোনা যায়- ‘২২ অক্টোবর ২০২৪ বঙ্গভবন চারপাশ দিয়ে ঘেরাও হয়। হাসনাত আব্দুল্লাহর দল, ইনকিলাব মঞ্চ, জুলাই ঐক্য-মৈক্য-এরা লাফ দিয়ে কাঁটাতারের বেড়ার ওপর উঠে পড়ে।’
বিবৃতিতে জুলাই ঐক্য জানায়, রাষ্ট্রপতি যে সময়ের কথা বলেছেন তা ২৪ অক্টোবর ২০২৪ সময়কাল। অথচ সংগঠনটি আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে ৬ মে ২০২৫- অর্থাৎ উল্লিখিত ঘটনার প্রায় সাত মাস পরে। ফলে ওই ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার প্রশ্নই ওঠে না বলে দাবি তাদের।
সংগঠনটির ভাষ্য, প্রতিষ্ঠার পর থেকে তারা কোনো অগণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালন করেনি। বরং নিজেদের একটি রাজনৈতিক ‘প্রেশার গ্রুপ’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে চব্বিশের গণহত্যার বিচার, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির মধ্যেই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রেখেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে জুলাই ঐক্যকে একটি ‘মব’-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত করার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যা বাস্তবতার পরিপন্থি এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক যথাযথ প্রেক্ষাপট ব্যতিরেকে বক্তব্য প্রকাশ করেছেন বলেও অভিযোগ তোলে সংগঠনটি।
জুলাই ঐক্য অবিলম্বে কালের কণ্ঠের ফেসবুক পেজ, ইউটিউবসহ যেসব মাধ্যমে তাদের নাম জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট প্রকাশ করা হয়েছে, তা প্রত্যাহার করে দুঃখ প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে। অন্যথায় পত্রিকাটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক স্পষ্টীকরণ প্রত্যাশা করেছে সংগঠনটি এবং বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রেস উইংয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
জুলাই ঐক্য আশা প্রকাশ করে বলেছে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, পেশাগত নীতি ও তথ্যের স্বচ্ছতার ভিত্তিতে এ বিতর্কের সমাধান হবে।


