অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বেশ গতি নিয়ে বাড়ছে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। এতে চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাস ৭ দিনে ২৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে রেমিট্যান্স। অর্থবছর শেষ না হতেই আগের সব রেকর্ড ভেঙে গেছে। এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল ২৪ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার।

ব্যাংকাররা বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হুন্ডির ব্যবসা চাঙ্গা ছিল। তবে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর হুন্ডি কমে এসেছে। আবার ব্যাংকিং চ্যানেলেই এখন ডলারের দাম বেশি মিলছে। যে কারণে এখন কেউ ঝুঁকি নিয়ে অবৈধ পথে দেশে টাকা পাঠাতে চাইছেন না। অন্যদিকে আড়াই শতাংশ প্রণোদনা আগেও ছিল, এখনো আছে। তাই পাচার ও হুন্ডি কমায় ব্যাংকিং চ্যানেলে বাড়ছে রেমিট্যান্স। আর রেমিট্যান্স বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাংকগুলোয় ডলারের যে সংকট চলছিল, তা অনেকটা কেটে গেছে বলেও জানান তারা।

আরও পড়ুন ৫৩ মাস ধরে কমছে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ঈদের মাস মার্চে দেশের ইতিহাসে রেকর্ড প্রায় ৩৩০ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স আসে দেশে। ঈদের পর রেমিট্যান্সের গতি অব্যাহত রয়েছে। গত এপ্রিল মাসে প্রবাসীরা ২৭৫ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। আর চলতি মে মাসের প্রথম সাতদিনে রেমিট্যান্স এসেছে ৬০১ মিলিয়ন ডলার। সবমিলিয়ে চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ৭ মে পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৫২৭ কোটি (২৫ দশমিক ২৭ বিলিয়ন) ডলার। অথচ গত অর্থবছরের একই সময়ে ১ হাজার ৯৭২ কোটি (১৯ দশমিক ৭২ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল দেশে।

তথ্যানুযায়ী, গত আগস্টে ফ্যাসিস্ট আ’লীগ সরকারের পতনের পর প্রতি মাসেই রেমিট্যান্স বাড়ছে। ওই মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ২২২ কোটি ৪১ লাখ ডলার। সেপ্টেম্বরে এসেছিল ২৪০ কোটি ৪১ লাখ ডলার, অক্টোবরে ২৩৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার, নভেম্বরে ২১৯ কোটি ৯৯ লাখ ডলার এবং ডিসেম্বরে ২৬৩ কোটি ৮৭ লাখ ডলার। চলতি বছরেও সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে। জানুয়ারিতে এসেছিল ২১৮ কোটি ৫২ লাখ ডলার এবং ফেব্রুয়ারিতে ২৫২ কোটি ৭৬ লাখ ডলার।