মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ায় এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম ১০০ শতাংশের বেশি বেড়ে গেছে।

হামলার পর কাতারের রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি ও মেসাইদ শিল্প এলাকায় অবস্থিত বড় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) স্থাপনাগুলোর উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা আরও বেড়েছে। খবর আনাদোলুর। 

আরও পড়ুন আপন ভাই-বোনের দান করমুক্ত

বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ এলএনজি রপ্তানি হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, যার বড় অংশই কাতার থেকে যায়। কিন্তু প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।

ইউরোপের প্রধান গ্যাস ট্রেডিং হাব ডাচ টাইটেল ট্রান্সফার ফ্যাসিলিটি (টিটিএফ)-এ এপ্রিল ডেলিভারির গ্যাসের দাম প্রতি মেগাওয়াট-ঘণ্টা ৬৫.৫০ ইউরোতে পৌঁছেছে, যা ২৭ ফেব্রুয়ারির ৩১.৯৫ ইউরোর তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। একদিনেই দাম প্রায় ৪৭ শতাংশ বেড়েছে।

বিশ্বের মোট এলএনজি রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ কাতারের, ফলে রাস লাফান ও মেসাইদের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়া ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর গ্যাস বাজারে সবচেয়ে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে বিকল্প এলএনজি সরবরাহ নিয়ে প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা।এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের গ্যাস মজুত বর্তমানে প্রায় ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় অনেক কম। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ৪ মার্চ ইউরোপীয় ইউনিয়নের ন্যাচারাল গ্যাস কো-অর্ডিনেশন গ্রুপ জরুরি বৈঠক করবে বলে জানা গেছে।