অপূর্ব নেতা জনাব তারেক রহমান

এসএম ফজলুল হক (বিশেষ প্রতিবেদক)

২৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:৫৩ পিএম

আপনজন হারানোর কষ্ট, অব্যক্ত যন্ত্রণায় কাতর, রক্তে-মাংসে-মাটির মিশ্রণে গড়া মানুষ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান। ভাইহারা, মা মৃত্যুশয্যায়, মামা-চাচাসহ সকল আত্মীয়স্বজনহারা এতিম জনাব তারেক রহমান জনতার সামনে—স্বাভাবিক ব্যথা-চেষ্টা নয় কি? বুকভরা ব্যথা, দুচোখে পানি, মুখে মুষ্টিমেয় হাসি—কি অপূর্ব নেতা তিনি! ক্ষতবিক্ষত হৃদয়ে দেশবাসীর সামনে হাস্যোজ্জ্বল ভঙ্গিমায় আগামীর সম্ভাবনাময় সরকারপ্রধান, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠপুত্র জনাব তারেক রহমান।


সংঘাতের পথে বাংলাদেশ

প্রায় দেড় যুগের অধিক সময় মেরুদণ্ডের ভাঙা হাড় এবং সীমাহীন নির্যাতনে অর্ধমৃত পথযাত্রী, চিকিৎসাবিজ্ঞানের কল্যাণে আজ ২৫ ডিসেম্বর স্বপরিবারে দেশে এসেছেন—প্রায় সকল আপনজনকে হারিয়ে। সত্যিই নিয়তির নির্মমতার শিকার একজন মানুষ কীভাবে সামলান নিজেকে? কীভাবেই বা কোটি কোটি মানুষের বিশ্বাস ও আস্থা বজায় রাখছেন? সুস্থ-সবল মাতা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুশয্যায় হাসপাতালে; সুস্থ কনিষ্ঠ ভাই আরাফাত রহমান কোকো না-ফেরার দেশে, বনানীর কবরস্থানে চিরনিদ্রায়। পিতৃকুল-মাতৃকুলের অতিনিকটতম আত্মীয়স্বজন হারিয়েও লক্ষ লক্ষ জনতার সামনে উপস্থাপন করছেন স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন এবং প্রকাশ করছেন ৩১ দফা আধুনিক বাংলাদেশের মুক্তির সনদ।


ফিরে দেখা যাক—প্রায় দেড় যুগ পেছনে, ২০০৬ সাল। চারদলীয় সরকারের শেষ দিনে আওয়ামী নেতৃত্বাধীন বামজোটের লগি-বৈঠাসহ ঢাকা ঘেরাও কর্মসূচির বিভৎসতা। মৃত্যুলাশের ওপর দাঁড়িয়ে নৃত্য করার পৈশাচিকতায় শিউরে ওঠে বিশ্ব। অভাবনীয় দৃষ্টিতে দেখা ঘৃণিত পৈশাচিকতায় ভয়াবহ নগ্নতা। ফখরুদ্দীন ও মইনুদ্দিনের নেতৃত্বে অবৈধ সরকারের সীমাহীন নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয় দেশের প্রায় সব পেশার মানুষ। মামলা-অভিযোগ ছাড়া আটক, জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন, অর্থ-বাণিজ্য ও রাজনীতিতে নেতৃত্বশূন্য করার হীন পরিকল্পনায় একের পর এক আটক হন দেশের বর্ষীয়ান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা।

বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ—বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পরিবারকে রাজনীতি থেকে বাদ দেওয়ার ‘মাইনাস টু’ ফর্মুলার নগ্নতার শিকার হয় দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপি। দলের চেয়ারপারসন ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং আওয়ামী লীগ সভানেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা—উভয়েই লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন।

দেশ থেকে বিতাড়িত করতে গ্রহণ করা হয় নানা হীন পরিকল্পনা। মামলা ও অভিযোগ ছাড়াই আটক করা হয় সন্তান ও নিকটতম আত্মীয়স্বজনদের। জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন চালিয়ে দুই নেত্রীকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়। মামলা হয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দুই সন্তান—জ্যেষ্ঠপুত্র বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব জনাব তারেক রহমান ও অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব কনিষ্ঠপুত্র আরাফাত রহমান কোকোর বিরুদ্ধে।

অবৈধ সেনাসমর্থিত ফখরুদ্দীন ও মইনুদ্দিনের চাপে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাজ্যে চলে যান। ব্যতিক্রম ঘটে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে। তিনি জানিয়ে দেন—বাংলাদেশ ছাড়া তাঁর এবং তাঁর পরিবারের যাওয়ার মতো পৃথিবীতে আর কোনো দেশ নেই। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে অবৈধ সরকার পূর্বে অসুস্থ থাকা আরাফাত রহমান কোকোকে ছেড়ে দিয়ে পুনরায় দুই ভাইকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদের নামে রিমান্ডে নিয়ে চালানো হয় সীমাহীন নির্যাতন; নির্মমতার চরমে পৌঁছে অবৈধ শাসকগোষ্ঠী।

প্রায় মৃত্যুমুখে থাকা আরাফাত রহমান কোকো ও জ্যেষ্ঠপুত্র তারেক রহমানকে প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে তিনতলার ওপর থেকে সিঁড়ি দিয়ে নিচে ফেলে দেওয়া হয়। মৃত ভেবে সরকারি কাগজপত্র ঠিক রাখতে পিজি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সৃষ্টিকর্তার অসীম ইচ্ছায় এবং বাংলাদেশসহ বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের ফরিয়াদে অর্ধমৃত তারেক রহমান নতুন জীবন ফিরে পান। যদিও চিকিৎসকদের ভবিষ্যদ্বাণী ছিল—আজীবন পঙ্গুত্ব।

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আজ ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠপুত্র, বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান স্বপরিবারে বাংলাদেশে এসেছেন—রেখে যাওয়া ভাই, মামা, চাচা ও নিকটতম আত্মীয়স্বজন হারিয়ে। সুস্থ থাকা মা, সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুর মুখে হাসপাতালের শয্যায়। নিয়তির নির্মমতার শিকার একজন মানুষ তারেক রহমান। দেশ ছেড়েছিলেন মৃত্যু-যন্ত্রণায় কাতর হয়ে, দু’চোখ ভরা পানি নিয়ে।

আজ প্রায় দেড় যুগ পরে দেশে এসেছেন—আপনজন হারানোর বেদনাতেই দু’চোখ ভরা পানি নিয়ে। বুকভরা ব্যথা, দুচোখে পানি, মুখে মিষ্টি হাসি—কি অপূর্ব নেতা জনাব তারেক রহমান। সুন্দর ও কল্যাণময় হোক আপনার যাত্রা। বিগত ১৯৯৭ সাল থেকে জনাব তারেক রহমানের পথচলার এক অখ্যাত অনুসারী হিসেবে জীবনের অবশিষ্ট সময়ের সহযাত্রী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা।’