৮২ হাজার বন্দি, ভোটার ২৬৯৬

সংসদ নির্বাচন

ছবি : সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৩ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:২৭ পিএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দেশের ৬৮টি কারাগারে থাকা প্রায় ৮২ হাজার বন্দির মধ্যে ভোট দেওয়ার জন্য অনলাইনে নিবন্ধন করেছেন মাত্র ২ হাজার ৬৯৬ জন। কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৩০ ডিসেম্বর বিকাল পর্যন্ত এই নিবন্ধন হয়েছে। যদিও দেশে মোট কারাগার ৬৮টি, বন্দিরা ৪০টি কারাগার থেকে অনলাইনে নিবন্ধন করেছেন। মোট বন্দির মধ্যে নারীর সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৯০০ জন।


আরও ১২০২ রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার

কারাবন্দিদের ভোটের জন্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তৈরি করা পোস্টাল অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইন নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ২০ ডিসেম্বর নিবন্ধন শুরু হয়ে ৩১ ডিসেম্বর শেষ হয়েছে।


এর আগে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কারাবন্দিদের মধ্যে ভোটের জন্য নিবন্ধন করেছিলেন মাত্র ১৩৯ জন। সে হিসাবে এবার সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে, তবে মোট বন্দির তুলনায় তা এখনও কম।

কারা অধিদপ্তর জানিয়েছে, বন্দিদের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য কারাগারেই সংরক্ষিত রয়েছে। ভোটের দিনে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট এলাকার নিবন্ধিত ভোটারদের জন্য আলাদা খাম পাঠাবে। খামে থাকবে ব্যালট পেপার, ভোট প্রদানের নির্দেশনা, ঘোষণাপত্র এবং ফেরত পাঠানোর খাম। বন্দিরা ব্যালট পেপারে ভোট দিয়ে খাম সিল করে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেবেন।

কারা কর্তৃপক্ষ এসব খাম ডাক বিভাগের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনে পাঠাবে। পরে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় এসব ভোট যুক্ত করা হবে। এছাড়া ভোটের দিন দায়িত্ব পালনকারী কারা কর্মকর্তারাও পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে পারবেন।

অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) জান্নাত-উল-ফরহাদ জানান, নির্বাচন কমিশনের তৈরি পোস্টাল অ্যাপের মাধ্যমে বন্দিদের ভোটার তথ্য নিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি জানান, যেসব কারাগারে বন্দিরা ভোট দেবেন, সেখানে প্রয়োজনীয় কম্পিউটার ও প্রিন্টার আছে কি না—তা আগে থেকেই যাচাই করেছে নির্বাচন অফিস। প্রয়োজন অনুযায়ী সরঞ্জামও সরবরাহ করা হয়েছে। কারাগারেই ভোটের বুথ স্থাপন করা হবে।

তিনি জানান, নিবন্ধনের সংখ্যা কম হওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। অধিকাংশ বন্দির ভোটার আইডি নেই। এছাড়া পোস্টাল অ্যাপে একবার নিবন্ধন করলে ভোটের আগে জামিনে মুক্তি পেলে ওই ব্যক্তি বাইরে ভোট দিতে পারবেন না এবং নিজের এলাকার ভোটার তালিকায়ও নাম থাকবে না। ভোটের আগে মুক্তির আশায় অনেক বন্দিই নিবন্ধনে আগ্রহ দেখাননি।

নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ২০০৮ (সংশোধন ২০২৫)-এর বিধি ১০ক অনুযায়ী, ‘ইন-কান্ট্রি পোস্টাল ভোটিং’ পদ্ধতিতে এই প্রথমবারের মতো জেলখানায় থাকা ব্যক্তিরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিটি কারাগারে নিবন্ধিত ভোটারদের জন্য গোপন কক্ষ বা উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে এবং ভোট গ্রহণ শেষে খামগুলো সুরক্ষিতভাবে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠাতে হবে।