অবৈধ পুকুর খননে কৃষকদের বাঁধা, এক্সকাভেটরে আগুন

ছবি : আওয়ার বাংলাদেশ
০৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:৫৪ পিএম
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার উজালখলসী গ্রামের পূর্ব বিলে আবারও শুরু হয়েছে অবৈধ পুকুর খনন। এতে বাধা দিতে গিয়ে চরম ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন প্রান্তিক কৃষকরা। অভিযোগ জানিয়েও প্রশাসনিক সহযোগিতা না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত এক্সকাভেটরে আগুন দেওয়ার মতো চরম পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হন তারা। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, নান্দিগ্রামের বাসিন্দা বেলাল নামের এক ব্যক্তি স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ও কথিত রাজনৈতিক নেতাদের ম্যানেজ করে প্রায় একশ একর আবাদি জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খনন শুরু করেন। এতে ব্যবহার করা হয় অন্তত পাঁচটি এক্সকাভেটর। অনেক জমির মালিক জানতেন না- তাদের জমিতে পুকুর খনন চলছে।
ভোট চুরিতে জড়িতদের বিচার চায় বিএনপি
কৃষকরা বাধা দিতে গেলে অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। নিরুপায় হয়ে দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন তারা। কিন্তু কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না আসায়, নিজেদের পৈতৃক ফসলি জমি রক্ষায় মসজিদে মাইকিং করে গ্রামবাসীকে একত্র করেন কৃষকরা। পরে গত ১ জানুয়ারি একটি এক্সকাভেটরে আগুন দেওয়া হয়।
স্থানীয় কৃষক আনছার আলী দৈনিক আওয়ার বাংলাদেশকে বলেন, বেলাল এলাকায় ‘ভেকু বেলাল’ বা ‘ভূমি দস্যু বেলাল’ নামে পরিচিত। কয়েক বছর আগেও তার তেমন কিছুই ছিল না। একসময় তিনি সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। সরকার পতনের পর তিনি আবার রাজনৈতিক পরিচয় বদলেছেন। বর্তমানে তিনি শত কোটি টাকার মালিক বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
জানা গেছে, সর্বশেষ ২০২৫ সালেও এই পূর্ব বিলে প্রায় দুইশ বিঘা জমিতে পুকুর খননের কাজ সম্পন্ন করেন বেলাল। সরেজমিনে এর বাস্তবচিত্র মিলেছে।
প্রান্তিক কৃষকদের দাবি, অবিলম্বে অবৈধ পুকুর খনন বন্ধ করে আবাদি জমি রক্ষা করা হোক। একই সঙ্গে ভূমি দস্যুদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে দৈনিক আওয়ার বাংলাদেশকে বেলাল জানান, কিছু ব্যক্তি তার কাছে টাকা দাবি করেছিল। দাবি পূরণ না করায় পরিকল্পিতভাবে তার ভেকুতে আগুন দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ঘটনায় জড়িতরা প্রকৃত জমির মালিক নন। যদিও দু’একজন মালিকের কাছ থেকে সরাসরি লিজ নেওয়া হয়নি বলে স্বীকার করেন তিনি। প্রশাসনের কোনো লিখিত অনুমোদন নেওয়া হয়নি বলেও জানান।
এ বিষয়ে দুর্গাপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাইলা নূর তানজু দৈনিক আওয়ার বাংলাদেশকে বলেন, ফসলি জমি ও জীবিকার ওপর আঘাত এলে কৃষকদের আতঙ্কিত হওয়া স্বাভাবিক। প্রশাসন বিষয়টিকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও দেখছে। কৃষকদের লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং তদন্ত চলছে। তদন্তে অবৈধ পুকুর খননের প্রমাণ মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কৃষিজমি রক্ষা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের দায়িত্ব বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।


