জিয়া পরিবারের সদস্য ছাড়া বগুড়ায় বিকল্প নেই

ছবি : সংগৃহীত
২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:৩০ পিএম
বগুড়াবাসীর আকাঙ্ক্ষা নতুন প্রজন্মের নেত্রী ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। সারাদেশের ন্যায় বগুড়ার মানুষের হৃদয়রাজ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ জিয়া পরিবার। বিশেষ করে বগুড়া-৬ আসনটি ঐতিহাসিকভাবেই জিয়া পরিবারের। সাবেক তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া এই আসন থেকে বারবার বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। তাই বগুড়াবাসীর আবেগের সদর আসনে বঙ্গমাতা বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিচ্ছবি, প্রিয় নাতনি জাইমা রহমানকেই তারা সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চান। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের অধিকাংশ ভোটারের পছন্দের প্রার্থী তারুণ্যের অহংকার ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।
কেন নীরবেই চলে যায় আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস
বগুড়া-৬ (সদর) আসনটি শূন্য ঘোষণা করায় সামনেই এই আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আসনটি শূন্য হওয়ার পর থেকেই আসন্ন উপনির্বাচন নিয়ে বগুড়ার রাজনৈতিক অঙ্গন সরগরম হয়ে উঠেছে। বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বগুড়ার তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের এখন একটাই চাওয়া - ‘জিয়া পরিবারের সদস্য ছাড়া বগুড়ায় বিকল্প নেই’। আর এই দাবির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের একমাত্র কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। এছাড়াও জিয়া পরিবারের সদস্য হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান ও প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান।
যুক্তরাজ্যের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি থেকে আইনে ডিগ্রি এবং লিংকনস ইন থেকে বার-অ্যাট-ল ব্যারিস্টারি সম্পন্ন করা জাইমা রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর পর সম্প্রতি পরিবারের সাথে দেশে ফিরেছেন। সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা-১৭ আসনে তার বাবা তারেক রহমানের পক্ষে সরাসরি মাঠে নেমে ব্যাপক গণসংযোগ করেন। সাধারণ ভোটার, পথচারী ও রিকশাচালকদের কাছে গিয়ে তিনি নিজ হাতে ধানের শীষের পরিবেশবান্ধব লিফলেট বিতরণ করেন। পাশাপাশি ভাসানটেকসহ বিভিন্ন এলাকায় ইফতার মাহফিল ও এতিম শিশুদের সাথে তার সাম্প্রতিক অংশগ্রহণ সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
অপ্রাপ্ত বয়সে পিতা জনাব তারেক রহমানের চিকিৎসায় যুক্তরাজ্যে গমন করলেও দেশে ফেরার পথ রুদ্ধ করে দেয় বিগত সরকারসমূহ। প্রায় দেড় যুগের অধিক সময় প্রবাসে থাকলেও ভুলে যাননি জন্মভূমি বাংলাদেশের কৃষ্টি-কালচার ও ঐতিহাসিক আবরণ। জিয়া পরিবারের নতুন প্রজন্মের সদস্যদের মাধ্যমে ফুঁটে উঠেছে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের “প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ” এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ‘মা, মাটি, দেশ’ শব্দগুলোর প্রতিচ্ছবি জনাব তারেক রহমান ও মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর সন্তানদের মাঝে। জিয়া পরিবারের নতুন প্রজন্মের তিন সদস্য অত্যন্ত পরিমার্জিত হওয়ায় প্রশংসায় সর্বস্তরের মানুষ ও সমালোচকরা।
জিয়া পরিবারের নতুন সদস্যরা কিছুদিন স্বাভাবিক জীবনযাপন করলেও উঠতি বয়সে চরম প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠা জাইমা রহমান ও দুই বোন কাছে থেকে দেখেছে বাবা ও চাচার মৃত্যুর প্রতিচ্ছবি। মনুষ্যপটে অমলিন স্মৃতিগুলোর সঙ্গে বেড়ে ওঠা জাইমা রহমান দেখেছেন পরিবারের ওপর সর্বকালের বীভৎস নির্যাতন, নির্মমতার চরমে। জিজ্ঞাসাবাদের নামে বাবা তারেক রহমান, চাচা আরাফাত রহমান কোকো, দাদী বেগম খালেদা জিয়ার ওপর নির্যাতনের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা পায়নি প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী, চিকিৎসক এবং ডাঃ জোবাইদা রহমানকেও নির্যাতনের দৃশ্য। জিয়া পরিবারের পুত্রবধূ হওয়ায় মফস্বল শহরে বদলির সঙ্গে যোগদানের সময় বেঁধে দেওয়ায় ক্ষুব্ধ মানুষের প্রতিবাদের সুযোগ সীমিত থাকায় নীরবতা পালন করে মানুষ। অনেক ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে প্রায় দেড় যুগ যুক্তরাজ্যে প্রবাসী অবস্থায় অর্জন করেন বার-অ্যাট-ল ব্যারিস্টারি।
২৫ ডিসেম্বর থেকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কাছে থেকে প্রত্যক্ষ করেছে প্রাণের চেয়ে প্রিয় ও খেলার সাথী দাদী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী, আপসহীন দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু একটি কালের সমাপ্তি। দেশে ফেরার পথে বই পড়ে সময় পার করা জাইমা রহমান হাসপাতালে অসুস্থ দাদী বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে যান পরিমার্জিত পোশাকে। গত ৩০ ডিসেম্বর ভোর ৬টায়, এক কাল - বঙ্গমাতা বেগম খালেদা জিয়ার সমাপ্তি ও কবরস্থ। দাদীর কবর জিয়ারতে পরিহিত পোশাক শাড়িতে থাকা জাইমা রহমান দাদীর পরিপূরক প্রতিচ্ছবি। পোশাকের পরিমার্জিতা ও নম্র ভদ্র আচরণে খুশি সর্বস্তরের মানুষ। ইতিপূর্বে জিয়া পরিবারের সমালোচকরাও প্রশংসায় ভাসিয়েছেন জিয়া পরিবারের নতুন প্রজন্মের বড় সদস্য জাইমা রহমানকে। তরুণ প্রজন্মের প্রায় ৫ কোটি ভোটারের বিশ্বাসের কেন্দ্রবিন্দু এখন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।
যার ধারাবাহিকতায় বগুড়াবাসীর আবেগের এই সদর আসনে তারা জিয়া পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের কাউকেই দেখতে চান। ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও জাইমা রহমানকে ঘিরে বগুড়াবাসীর ব্যাপক প্রত্যাশার চিত্র ফুটে উঠেছে। ইউটিউব ও ফেসবুকে ‘বগুড়া উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হচ্ছেন জাইমা রহমান’ এমন আলোচনা এখন সর্বত্র।
বগুড়ার মাটি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এর আদর্শে উজ্জীবিত এক ঐতিহাসিক রাজনৈতিক ঘাঁটি। এ অঞ্চলের মানুষের হৃদয়ের গভীরে প্রোথিত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বগুড়ার কৃতিসন্তান জনাব তারেক রহমানের প্রতি অগাধ ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও আস্থা। সেই আবেগ ও বিশ্বাসকে ধারণ করেই আসন্ন উপনির্বাচনকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন প্রত্যাশা। এলাকাবাসী ও তরুণ ভোটারদের দৃঢ় আকাঙ্ক্ষা - ব্যারিস্টার জাইমা রহমান বগুড়া-৬ (সদর) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থী হোন। তাদের বিশ্বাস, তিনি নেতৃত্বের দায়িত্ব নিলে শুধু বগুড়াই নয়, সমগ্র উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের মাঝে জাগবে পরিবর্তনের অনুপ্রেরণা, সৃষ্টি হবে আশার এক নতুন দিগন্তের সূচনা।


