ছোটরাও পাবে এনআইডি

ছবি : সংগৃহীত
২২ জুলাই ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও সমন্বিত করতে বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বর্তমানের ১৬ বছর বয়সের পরিবর্তে প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায় থেকেই নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে সংস্থাটি।
হালুয়াঘাট ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান’র পরিচালক মিঠুন রাকসাম
গত মঙ্গলবার নির্বাচন ভবনে ১২তম কমিশন সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেন, বর্তমানে ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সীদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। ১৮ বছর পূর্ণ হলে তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন, আর এর আগে তথ্যগুলো ‘ডরম্যান্ট’ অবস্থায় সংরক্ষিত থাকে।
তিনি জানান, তথ্য সংগ্রহের বয়সসীমা এসএসসি, অষ্টম শ্রেণি কিংবা প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায়ে নামিয়ে আনা যায় কি না, তা পর্যালোচনা করে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এনআইডি সংশোধন ও ভোটার এলাকা পরিবর্তনের প্রক্রিয়াও আরও সহজ করা হচ্ছে। এখন থেকে ভোটার এলাকা স্থানান্তরের আবেদন অনলাইনে করা যাবে। এ জন্য নির্ধারিত প্রাতিষ্ঠানিক ফি দিতে হবে।
এ ছাড়া আইন অনুযায়ী প্রতি ১৫ বছর পর এনআইডি নবায়নের সময় একটি নির্ধারিত ফরম পূরণ করতে হবে। সেখানে আবেদনকারীকে পারিবারিক পরিচয় বা ‘ফ্যামিলি ট্রি’র তথ্য দিতে হবে, যাতে তথ্য যাচাই ও সমন্বয় সহজ হয়।
জনভোগান্তি কমাতে জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষমতাও মাঠপর্যায়ে দেওয়া হচ্ছে। জেএসসি, এসএসসি বা পিএসসির সনদের ভিত্তিতে বয়স সংশোধনের আবেদন এখন থেকে স্থানীয় পর্যায়েই নিষ্পত্তি করা যাবে।
প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়াও সহজ করা হচ্ছে। বিদেশে বায়োমেট্রিক তথ্য দেওয়ার পরই তা সিস্টেমে আপলোড হবে। দেশে তদন্ত শেষে তথ্য সঠিক প্রমাণিত হলে কেন্দ্রীয়ভাবে দ্রুত অনুমোদন দেওয়া হবে, ফলে সময় ও জটিলতা দুটোই কমবে।
নাগরিক সেবা সহজ করা, তথ্যভাণ্ডার আরও সমৃদ্ধ করা এবং এনআইডি ব্যবস্থাকে ডিজিটাল ও কার্যকর করার লক্ষ্যে এসব সংস্কার আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। শিগগিরই এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।


