এতিম তারেক রহমান, জনতার অভিভাবক
অভিভাবকের শীতল ছায়া, স্নেহহীন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান দেশ ও প্রায় ১৯ কোটি মানুষের অভিভাবক ও ছায়া প্রদানকারী আশ্রয়স্থল।

ছবি : সংগৃহীত
০২ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:০৯ পিএম
ফিরে দেখা যাক—প্রায় দেড় যুগ পেছনে, ২০০৬ সাল। চারদলীয় সরকারের শেষ দিনে আওয়ামী নেতৃত্বাধীন বামজোটের লগি-বৈঠাসহ ঢাকা ঘেরাও কর্মসূচির বিভৎসতা। মৃত্যুলাশের ওপর দাঁড়িয়ে নৃত্য করার পৈশাচিকতায় শিউরে ওঠে বিশ্ব। অভাবনীয় দৃষ্টিতে দেখা ঘৃণিত পৈশাচিকতায় ভয়াবহ নগ্নতা। ফখরুদ্দীন ও মইনুদ্দিনের নেতৃত্বে অবৈধ সরকারের সীমাহীন নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয় দেশের প্রায় সব পেশার মানুষ। মামলা-অভিযোগ ছাড়াই আটক, জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন, অর্থ-বাণিজ্য ও রাজনীতিতে নেতৃত্বশূন্য করার হীন পরিকল্পনায় একের পর এক আটক হন দেশের বর্ষীয়ান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা।
মওলানা ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী আজ
বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ—বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিবারকে রাজনীতি থেকে বাদ দেওয়ার ‘মাইনাস টু’ ফর্মুলার নগ্নতার শিকার হয় দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপি। দলের চেয়ারপারসন ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী আপসহীন দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া এবং আওয়ামী লীগ সভানেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা—উভয়েই লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন। দেশ থেকে বিতাড়িত করতে নেওয়া হয় নানা হীন পরিকল্পনা। মামলা ও অভিযোগ ছাড়াই আটক করা হয় সন্তান ও নিকটতম আত্মীয়স্বজনদের। জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন চালিয়ে দুই নেত্রীকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়। মামলা দেওয়া হয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী, গণতন্ত্রের মা মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার দুই সন্তান—জ্যেষ্ঠপুত্র, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব জনাব তারেক রহমান এবং অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, কনিষ্ঠপুত্র মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর বিরুদ্ধে।
অবৈধ সেনাসমর্থিত ফখরুদ্দীন-মইনুদ্দিনের চাপে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাজ্যে চলে যান। কিন্তু ব্যতিক্রম ঘটে বিএনপির চেয়ারপারসন, আপসহীন দেশনেত্রী ও গণতন্ত্রের মা মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন—বাংলাদেশ ছাড়া তাঁর ও তাঁর পরিবারের যাওয়ার মতো পৃথিবীতে আর কোনো দেশ নেই।
এতে ক্ষুব্ধ হয়ে অবৈধ সরকার পূর্ব থেকেই অসুস্থ আরাফাত রহমান কোকোকে ছেড়ে দিয়ে পুনরায় দুই ভাইকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদের নামে রিমান্ডে নিয়ে চালানো হয় সীমাহীন নির্যাতন। নির্মমতার চরম পর্যায়ে পৌঁছে যায় অবৈধ শাসকগোষ্ঠী। প্রায় মৃত্যুমুখে থাকা আরাফাত রহমান কোকো এবং জ্যেষ্ঠপুত্র তারেক রহমানকে প্রাণহীন করার উদ্দেশ্যে তিনতলার ওপর থেকে সিঁড়ি দিয়ে নিচে ফেলে দেওয়া হয়। মৃত ভেবে সরকারি কাগজপত্র ঠিক রাখতে পিজি হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সৃষ্টিকর্তার অসীম ইচ্ছায়, বাংলাদেশসহ বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের ফরিয়াদে অর্ধমৃত জনাব তারেক রহমান নতুন জীবন ফিরে পান। যদিও চিকিৎসকদের ভবিষ্যদ্বাণী ছিল—আজীবন পঙ্গুত্ব।
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠপুত্র, বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান স্বপরিবারে বাংলাদেশে ফিরে এসেছেন। ফিরে এসেছেন রেখে যাওয়া ভাই, মামা, চাচা ও নিকটতম আত্মীয়স্বজনকে হারিয়ে।
সুস্থ থাকা মা, সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও আজ স্বামীর পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত। নিয়তির নির্মমতার এক করুণ প্রতিচ্ছবি জনাব তারেক রহমান। দেশ ছেড়েছিলেন মৃত্যু-যন্ত্রণায় কাতর হয়ে, দু’চোখ ভরা অশ্রু নিয়ে। আজ প্রায় দেড় যুগ পরে দেশে ফিরেছেন—আবারও আপনজন হারানোর বেদনায় দু’চোখ ভরা অশ্রু নিয়েই।
২০০৭ সাল থেকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সর্বাধিক নির্যাতিত, নিষ্পেষিত, সীমাহীন নির্মমতার বলি জনাব তারেক রহমান। অভিযোগ ও মামলাবিহীন আটক এবং জিজ্ঞাসাবাদের নামে অবৈধ ফখরুদ্দীন ও মইনুদ্দিন সরকারের নির্মূল পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তিনতলা সিঁড়ি থেকে নিচে ফেলে দেওয়া হয় হত্যার উদ্দেশ্যে। এ চেষ্টা ব্যর্থ হলেও থামেনি ঘাতকরা। সর্বশান্ত ও এতিম করার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যায় অবৈধ সরকার। তাদের নগ্নতায় আজ জিয়া পরিবারের সদস্য জনাব আরাফাত রহমান কোকো ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ক্ষুব্ধ ও রাগান্বিত মানুষ দাঁতের ওপর দাঁত তুলে চিবাচ্ছেন নিজের মুখমণ্ডল।
প্রায় মৃত জনাব তারেক রহমান চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে গমনের পর চিরদিনের জন্য হারিয়ে ফেললেন সহোদর ছোট ভাই মরহুম আরাফাত রহমান কোকোকে। একই সঙ্গে হারিয়ে ফেললেন পিতার সূত্রে চাচা, ফুফু, চাচি ও চাচাতো ভাই-বোনকে। যার উদাহরণ, উত্তরায় প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তে আপন চাচাতো বোন, স্কুলশিক্ষিকা মেহেরিন চৌধুরী শহীদ হন। একইভাবে মাতৃকূলে খালা, দুই মামাসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন হারিয়ে জনাব তারেক রহমান একা হয়ে যান ৩০ ডিসেম্বর ভোর ৬টায়। এই পৃথিবীর সর্বাধিক মূল্যবান সম্পদ স্নেহময় মা হারিয়ে একা এতিম জনাব তারেক রহমান এখন দেশ ও মানুষের অভিভাবক। সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী এবং গণতন্ত্রের মা মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার আদরের সন্তান আগামী দিনের সম্ভাব্য সরকারপ্রধান।
আপনজন হারানোর কষ্ট, অব্যক্ত যন্ত্রণায় কাতর, রক্তে-মাংসে-মাটির মিশ্রণে গড়া মানুষ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান। ক্ষতবিক্ষত হৃদয়ে, দুচোখে লোনা পানি নিয়ে ছুটছেন ৫৬ হাজার বর্গমাইল বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে। শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে অজপাড়া গ্রামের তৃণমূল মানুষের দ্বারে। বাংলাদেশ ও প্রায় ১৯ কোটি মানুষের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে ছুটে চলা তারেক রহমান প্রায় দেড় যুগ আগে আটক ও অর্ধমৃত অবস্থায় বিদেশে নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ বাংলাদেশে ফিরে আসায় আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠে জাতি। হাসি-খুশি, পূর্ণ আনন্দ উৎসব সইল না খুব বেশিদিন। গত ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ ভোরে বিশাদের কালো মেঘে আচ্ছন্ন জাতি হারিয়ে ফেলল একান্ত আপনজন ও অভিভাবক—বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে।
আত্মীয়স্বজনহারা এক এতিম জনাব তারেক রহমান আজ জনতার সামনে। বুকভরা ব্যথা, দুচোখে পানি, মুখে মুষ্টিমেয় হাসি—কি অপূর্ব নেতা তিনি! ক্ষতবিক্ষত হৃদয়ে দেশবাসীর সামনে হাস্যোজ্জ্বল ভঙ্গিমায় আগামীর সম্ভাবনাময় সরকারপ্রধান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠপুত্র জনাব তারেক রহমান। সত্যিই, নিয়তির নির্মমতার শিকার একজন মানুষ কীভাবে সামলান নিজেকে? কীভাবে বিনা বাধায় কোটি কোটি মানুষের বিশ্বাস ও আস্থা বজায় রাখেন?
পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সুস্থ, সবল মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নেই আজ আমাদের মাঝে। কনিষ্ঠ ভাই আরাফাত রহমান কোকোও না-ফেরার দেশে—বনানীর কবরস্থানে চিরনিদ্রায়। পিতৃকুল-মাতৃকুলের অতিনিকট আত্মীয়স্বজন হারিয়েও লক্ষ লক্ষ জনতার সামনে তিনি উপস্থাপন করছেন স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন এবং প্রকাশ করছেন ৩১ দফা আধুনিক বাংলাদেশের মুক্তির সনদ।
বুকভরা ব্যথা, দুচোখে পানি, মুখে মিষ্টি হাসি—কি অপূর্ব নেতা জনাব তারেক রহমান। সুন্দর ও কল্যাণময় হোক আপনার যাত্রা। পারিবারিকভাবে আপনার পথচলার এক অখ্যাত অনুসারী হিসেবে জীবনের অবশিষ্ট সময়টুকু সহযাত্রী হয়ে থাকতে পারাই আকাঙ্ক্ষা।


